বিশ্বের জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ দিয়ে পুরো যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইরান। এই সমুদ্রপথে যাতায়াত করতে এখন থেকে তেহরানের পূর্বানুমতি নিতে হবে। দিতে হবে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি-ও। এজন্য নতুন পদ্ধতি চালু করছে ইরান।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের জন্য ভেটিং বা যাচাইকরণ ব্যবস্থা তৈরি করছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
ইরান সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে একটি নির্বাচিত অবরোধ দিয়েছে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজকে এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
সামুদ্রিক সংবাদ ও বিশ্লেষণ সংস্থা ‘লয়েডস লিস্ট’ বুধবার (১৮ মার্চ) জানিয়েছে, ভারত, পাকিস্তান, ইরাক, মালয়েশিয়া, চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইরানের আঞ্চলিক জলসীমা দিয়ে যাতায়াতের জন্য তেহরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করছে।
লয়েডস জানিয়েছে, ইরানের আইআরজিসি একটি নতুন যাচাইকরণ এবং নিবন্ধন ব্যবস্থা তৈরি করছে বলে জানা গেছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) পর্যন্ত অন্তত ৯টি জাহাজ ইরানের লারাক দ্বীপের পাশ দিয়ে একটি করিডোর ব্যবহার করে যাতায়াত করেছে।
জানা গেছে, একটি ট্যাঙ্কার যাতায়াতের অধিকার পেতে প্রায় ২০ লাখ মার্কিন ডলার দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সামুদ্রিক আইন বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স মিলস বলেন, এই নতুন নিবন্ধন ব্যবস্থা একটি স্বল্পমেয়াদী সমাধান হতে পারে, তবে বীমা খাতের কারণে এটি বাধার মুখে পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, ইরানি জলসীমা ব্যবহার করা, ইরানি বন্দরে ভেড়া এবং সমস্ত পণ্যের গন্তব্য ঘোষণা করার শর্তে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার এই প্রস্তাব বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। এটি ইরানি জলসীমায় প্রবেশের সময় জাহাজের অবস্থান গোপন রাখার দীর্ঘদিনের পদ্ধতির সম্পূর্ণ বিপরীত এবং চলমান সংঘাতের মধ্যে জাহাজগুলোর জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে।
মিলস আরও উল্লেখ করেন, বীমা, নিরাপত্তা ও বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার কারণে জাহাজগুলো এই পদ্ধতিতে সফলভাবে চলাচল করতে পারবে কিনা- সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে সংঘাত চলতে থাকলে কিছু কোম্পানি বা জাহাজের জন্য এটি গ্রহণ করা একটি প্রয়োজনীয় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা।

