অনেকে ভাবেন- নিজের যোগ্যতা প্রকাশ করার জন্য বেশি কথা বলতে হবে। যত বেশি কথা বলব, তত বেশি গুরুত্ব পাওয়া যাবে। কিন্তু অনেক সময় সত্যটা আসলে উল্টাে। যদি আপনি কথা কম বলেন আর মন দিয়ে শুনেন, তাহলে আপনি সাফল্যের পথে একধাপ এগিয়ে যাবেন।
যে সাত কারণে কম কথা বলে বেশি শুনবেন-
১. জ্ঞানই শক্তি
গবেষণা থেকে জানা গেছে, যারা বেশি শোনেন, তারা বেশি তথ্য জানেন। আর সেই তথ্যই দীর্ঘমেয়াদে তাদের সাফল্য ও প্রগতি দেয়।
২. বেশি বলে ফেলার আফসোস থেকে বাঁচবেন
যদি আপনি আজ কিছু না বলেন, কালও বলতে পারবেন। কিন্তু একবার কিছু বলা হয়ে গেলে তা আর ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। তাই কম কথা মানে আফসোসের কম কারণ।
৩. অযথা ভুল বোঝাবুঝি হয় না
একেটি প্রবাদ আছে ‘মুখ বন্ধ রাখলে লোকজন তোমাকে বোকা ভাবতে পারে; তবে কথা বললে সব সন্দেহ মিটে যায়।’ অর্থাৎ ভেবেচিন্তা কথা না বললে আপনি অন্যের কাছে বোকা হয়ে যেতে পারেন। তাই কোনো বিষয়ে জানা না থাকলে, অযথা কথা না বলাই ভালো।
৪. কথার মূল্য কমে যায়
যারা বেশি কথা বলেন, তারা সাধারণত একই কথা বারবার বলেন, এতে কথার মূল্য কমে যায়। তাই কথার দাম রাখতে কথা কম বলা উচিত।
৫. বললেই মানুষ বোঝা ও শ্রদ্ধা পায়
সবাই চায় কেউ তাদের কথা মন দিয়ে শুনুক। কথা না বলে মন দিয়ে শোনা মানে আপনি তাদের মূল্য দিচ্ছেন। জগতে আসলে বলার মানুষ বেশি, শোনার মানুষ কম। তাই কারও কথা যখন আপনি মন দিয়ে শুনবেন, দেখবেন তার সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।
৬. তথ্য পেতে সাহায্য করে
যদি আপনি চুপ থেকে অন্যকে কথা বলার সুযোগ দেন, তাহলে জিজ্ঞেস না করেই অনেক কিছু জানতে পারবেন।
৭. কম বললে কথার মূল্য বাড়ে
যদি আপনি মাঝে মাঝে কথা বলেন,আর বেশিরভাগ সময় চুপ থাকেন – তাহলে আপনার প্রতিটি কথা অন্যের কাছে সর্বোচ্চ মূল্যবান মনে হয়।
কীভাবে শুরু করবেন?
>> মনোযোগ দিয়ে শুনুন: কথা বলার সময় মাথা নেড়ে সম্মতি দেখান।
>> প্রশ্ন করুন: বোঝার জন্য ছোট ছোট প্রশ্ন করুন।
>> শেষ করতে দিন: উত্তর মাথায় আসলেই বলতে হবে, জরুরি না। সামনের জনের কথা শেষ করার সময় দিন।
‘কম কথা, বেশি মনোযোগ’ – এটি শুধু ভালো সম্পর্ক গড়ার উপায় নয়, এটি আপনাকে জীবনে এবং পেশায় সফলভাবে প্রতিষ্ঠা পেতেও সাহায্য করবে। এখনই শুরু করুন।
সূত্র: ইনকর্পোরেটেড ম্যাগাজিন

