চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নের মৈশামুড়া এলাকার মো. হানিফ (৫৫) এর বিরুদ্ধে ভয়ভীতি, হামলা, চাঁদাবাজি এবং মিথ্যা মামলার মাধ্যমে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী সাতকানিয়ার ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, হানিফ এখন এলাকাবাসীর জন্য এক আতঙ্কের নাম।
শহীদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ এক বছর ধরে তিনি পার্শ্ববর্তী চন্দনাইশ উপজেলায় বসবাস করছেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে মো. হানিফ তার মালিকানাধীন ব্রিক ফিল্ডে গিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত অর্থ না দিলে হানিফ লোহার রড দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এতে শহীদুল ইসলামের বাম পায়ের একটি আঙুল মারাত্মক জখম হয় এবং সাতটি সেলাই দিতে হয়। তিনি দুই মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
শুধু শারীরিক হামলাই নয়, হামলার সময় তার মোবাইল ফোন এবং ক্যাশবক্সে থাকা ৩ লাখ টাকাও নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় মামলা করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে জানান ভুক্তভোগী।
শহীদুল ইসলাম আরও জানান, হানিফ এর আগেও সোহেল মেম্বার, খোকা ও নজরুলসহ একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করেছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক ভুয়া মামলার অভিযোগ রয়েছে।
একটি উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, গত বছর হানিফ সিআর মামলা নং ২৪০/২০২৪-এ অভিযোগ করেন যে, আমিনুল ইসলাম ও মো. ইসমাইল ফকির তার জমি থেকে ৪০ ফুট গভীর করে মাটি কেটে নিয়েছে এবং এতে ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অথচ বাস্তবে উক্ত জমি এখনো চাষাবাদের উপযোগী এবং সেখানে একাধিক মালিক রয়েছেন।
এরপর চলতি বছরের ১৬ মে (২০২৫) একই জমি নিয়ে আবারও একটি মামলা দায়ের করেন হানিফ (সাতকানিয়া থানায় মামলা নং-১৩), যেখানে তিনি দাবি করেন এবার ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। নতুন মামলায় শহীদুল ইসলামসহ আরও দুইজনকে আসামি করা হয়েছে।
শহীদুল ইসলামের দাবি, হানিফ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখান এবং এসব মামলার মাধ্যমে চাঁদাবাজি করেন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেয় না, বরং অভিযোগকারীরাই হয়রানির শিকার হন।
এলাকাবাসী বলছেন, একাধিক মিথ্যা মামলা, ভয়ভীতি ও দাপটের কারণে এখন পুরো এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। হানিফের বিরুদ্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

