বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০২৬

এক-এগারোর ছক কষছেন ‘ছোট দলের বড় নেতা’: বিচারপতি সালাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশ ও জাতির বহুল প্রতীক্ষিত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এবার ‘বোমা’ ফাটালেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আবদুস সালাম মামুন। এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) অলি আহমদের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, ‘কতিপয় ছোট দলের বড় নেতা আরেকটি এক-এগারো সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছেন। নির্বাচন বিলম্বিত করার ষড়যন্ত্র করছেন।’

বিচারপতি আবদুস সালাম মামুন শনিবার (৫ জুলাই) চট্টগ্রাম নগরের একটি রেস্টুরেন্টে স্থানীয় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

তাঁর মতে, ছোট দলের একজন বড় নেতা ‘বাঁকাপথে’ রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে আছেন। তাঁর ওই ‘খায়েশ’ মেটাতে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠেছেন। এমন অবস্থায় জাতিকে সজাগ থাকতে হবে। এসব কূটকৌশলীকে জনপ্রতিরোধ করতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী আবদুস সালাম মামুন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। বিচারপতি পদ থেকে অবসরের পর দলীয় বড় পদ-পদবিতে না থাকলেও বিএনপির রাজনীতিতে বেশ সক্রিয়। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশে।

জানা গেছে, ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে চন্দনাইশ-সাতকানিয়া (আংশিক) আসনে চেয়েছিলেন বিএনপির মনোনয়ন। কিন্তু পাননি। আর ২০০৮ সালে দল তাকে ওই আসনে মনোনয়ন দিতে চাইলেও তিনি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না! বলেন, ‘নমিনেশন দিয়ে দল আমাকে মূল্যায়ন করলেও ওই সময় আমি ছিলাম অপ্রস্তুত। তাই নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে মাঠে-ময়দানে ছিলাম সরব।’

আগামী সংসদ নির্বাচনে দল চাইলে বিচারপতি আবদুস সালাম মামুন এমপি প্রার্থী হবেন জানিয়ে বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে জিতে চন্দনাইশ আসন পুনরুদ্ধার করে দলকে উপহার দেব।’

খ্যাতিমান আইনজীবী মামুন বলেন, ‘চন্দনাইশে বিএনপি বা এর অঙ্গসংগঠনের কেউ কোনো অপকর্মে জড়িত নেই। বর্তমানে কর্নেল অলির নামে এখানে বেশ জোরেশোরে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি চলছে। কিন্তু ওই দলের নেতাদের কেউ এতে বাধা দেন না; আবার বিচারও করেন না। অনেকটা চাঁদাবাজরা উৎসাহ-উদ্দীপনায় ওই অপকর্মে লিপ্ত।’

জাতি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার মসৃণ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। এই অবস্থায় তথাকথিত কতিপয় ছোট দলের বড় নেতা নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থে এবং গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বিনষ্ট করার উদ্দেশে বিভিন্ন অজুহাত তৈরি করে অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতি তৈরির চক্রান্ত করছেন।’

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট এবং চন্দনাইশ আসনের বার বার নির্বাচিত এমপি ও সাবেক মন্ত্রী অলি আহমদ বীর বিক্রম। ‘ছোট দলের বড় নেতা’ বলতে তাকে উদ্দেশ্য করে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে বিচারপতি মামুন বলেন, ‘আমি জাতীয় পর্যায়ে যারা রাজনীতি করছেন এবং যাদের দল ছোট হলেও নেতা হিসেবে বড় মনে করেন কিংবা বড় বলে দাবি করেন; তাদের উদ্দেশে এ কথাগুলো বলছি।’

‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে দেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সুনামের ক্ষতি হবে। এক-এগারোর দিকে জাতিকে ঠেলে দেওয়া হলে বিশ্বে আমরা অনেক অনেক পিছিয়ে যাব’ —যোগ করেন বিএনপি নেতা আবদুস সালাম মামুন।

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আবদুস সালাম মামুন

চন্দনাইশের কথা উল্লেখ করে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বিচারপতি মামুন বলেন, ‘যাদের দল ছোট, নেতা বড়; তাদের স্থানীয় পর্যায়ে এখন দিন দিন জনপ্রিয়তা হ্রাস পাচ্ছে।’

চন্দনাইশ আসনে এখন সুসময়ের অনেক ‘কোকিল’ বিএনপিতে উঁকি দিচ্ছেন জানিয়ে বিচারপতি আবদুস সালাম মামুন বলেন, ‘এমন কিছু মানুষের নাম শুনেছি; যাদের নাম এলাকার মানুষ আগে শুনেননি! দেখাও পাননি কখনো। আমি ১৯৭৯ সালের নির্বাচন থেকে চন্দনাইশে নির্বাচনী কার্যক্রম করে আসছি। ১৯৮০ সালের উপনির্বাচনে কাজ করেছি। পরবর্তী নির্বাচনগুলোতেও কাজ করেছি; এখনো কাজ করে যাচ্ছি। আজীবন করে যাব দলের পক্ষে।’

‘চন্দনাইশের জনগণকে আমি বুঝি। তারা গণতান্ত্রিক মনোভাবাপূর্ণ। তাদের জন্য আমি মনপ্রাণ উজাড় করে কাজ করে যাব’ —বলেন মামুন।

চন্দনাইশে অলি আহমদের প্রভাবের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তিনি (অলি আহমদ) যখন বিএনপির স্ট্যান্ডিং (স্থায়ী) কমিটির সদস্য ছিলেন; তখন অবশ্যই চন্দনাইশে প্রভাব ছিল তার। কিন্তু তিনি যখন বিএনপিকে ভেঙে ফেলেছেন; তখন চন্দনাইশের মানুষের মন থেকেও তিনি উঠে গেছেন। তবে একেবারে তিনি মুছে না গেলেও তাদের স্মৃতি থেকে মলিন হয়ে যাচ্ছেন।’

- Advertisement -spot_img
  • সর্বশেষ
  • পঠিত