শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬

জিয়াউর রহমানের নামে কালুরঘাট সেতুর নামকরণের দাবী জানালেন সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ এপ্রিল বুধবার দুপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করে তিনি এ দাবি জানান।
বক্তব্যে তিনি বলেন চট্টগ্রাম ০৯ আসনটি সিটি কর্পোরেশনের ১৪ টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফলাইন খ্যাত কর্ণফুলীর কোল ঘেঁষে বৃহত্তর বাকলিয়া, ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা কেন্দ্র চকবাজার, চট্টগ্রাম শহরের মূল কেন্দ্র কোতোয়ালী এবং ডবলমুরিং ও আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা নিয়ে গঠিত আসনটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন।
স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, অর্থনীতি এবং প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বের কারণে একটি কথা প্রচলিত রয়েছে, এই আসন থেকে যে দলের প্রার্থী নির্বাচিত হয় সে দল সরকার গঠন করে এবং যিনি নির্বাচিত হন তিনি মন্ত্রী হন। বিগত ৫৪ বছরের ইতিহাসে এর ব্যতিক্রম ঘটেনি।
২০১৮ সালের নির্বাচন ও ২০২০ সালের উপনির্বাচনে চট্টগ্রামের ০৮ নির্বাচনী এলাকা থেকে এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম ০৯ আসন থেকে মনোনয়ন দেয়ায় বিএনপি’র চেয়ারম্যান এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান, পাশাপাশি কৃতজ্ঞতা জানান নির্বাচনী এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণের প্রতি।

গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, যে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন সে একই নামে চট্টগ্রামে রয়েছে কালুরঘাট ব্রীজ। জিয়াউর রহমানের স্মৃতি জড়িয়ে থাকায় বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার এই ব্রিজের উন্নয়ন করেনি। মাননীয় স্পিকারের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণাকে স্বরণীয় করে রাখতে শহীদ জিয়াউর রহমানের নামে কালুরঘাট সেতুর নামকরণ এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রীজের উন্নয়ন কাজ শুরুর দাবি জানান তিনি। এটি চট্টগ্রামবাসীর প্রাণের দাবি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান “৩১ দফার কর্মসূচি ও আই হ্যাভ এ প্ল্যান” এর যে ঘোষণা দিয়েছেন সে ঘোষণার প্রতি সারা দেশের মানুষ আস্থা রেখেছে এবং গণরায় দিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেছে। দায়িত্ব পেয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বল্প সময়ে যে সকল যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তা ইতিহাসে নজিরবিহীন। আমরা আশা করি ওনার সুযোগ্য নেতৃত্বে জনগণের যে কাঙ্খিত বাংলাদেশ, নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ তা আমরা ফিরে পাবো ইনশাল্লাহ।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সংসদে জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কথা বলার জন্য সকল সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি সংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ফটোকার্ড ও প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করা হচ্ছে এর বিরুদ্ধে একটা সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের দাবি জানান। তিনি বলেন কোনটি বাকস্বাধীনতা আর কোনটি অপরাধ তার সীমারেখা নির্ধারণ করতে হবে।

- Advertisement -spot_img
  • সর্বশেষ
  • পঠিত