শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬

চট্টগ্রামে গৃহবধূর আত্নহত্যা, মায়ের দায়ের করা মামলায় স্বামী ও শ্বশুর কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানাধীন পাথরঘাটা এলাকায় রিয়া দে (২৪) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। গত ১৪ এপ্রিল সকালে নগরীর পাথরঘাটা এলাকার রায়ান রেশমা ভ্যালী নামক বিল্ডিংয়ে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে বলে জানান মেয়ের চাচা সজল কান্তি দে। নিহত রিয়া দে চট্টগ্রামের রাউজান থানার উত্তর গুজরা গ্রামের দ্বীনবন্ধু মাস্টার বাড়ির মৃত কাজল কান্তুি দে’র মেয়ে। বর্তমানে কোতোয়ালি থানাধীন পাথরঘাটা নজুমিয়া লেইন ৪নং গলির যুব ম্যানশনে রিয়ার মা ও ভাইয়েরা বসবাস করেন। তার একটা রিদ্দ দাশ নামের দুই বছর বয়সী কন্যা সন্তান রয়েছে।

এঘটনায় নিহতের মা ঝুমা দে ৪ জনকে আসামি করে আত্মহত্যার প্ররোচনায় অভিযোগ এনে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যাহার মামলা নং- ৪৩/২০২৬। আসামিরা হলেন, রাজন দাশ (৩২) নিহতের স্বামী, সুজন দাশ (২৮) দেবর, মিনা দাশ (৫২) শ্বাশুড়ি ও রনধীর দাশ (৬৫) শ্বশুর। আসামিরা সবাই আনোয়ারা থানাধীন বাথুয়া পাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা এবং বর্তমানে কোতোয়ালি থানাধীন অভয়মিত্র ঘাট এলাকায় রায়ান রেশমা ভ্যালীর ৭ম তলায় বসবাস করে বলে জানা যায়।

নিহতের মা ঝুমা দে’র দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, রিয়ার স্বামী রাজন দে এবং তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল। পারিবারিক কলহ, চাপ এবং তাকে আত্নহত্যা করতে মানসিক চাপ সৃষ্টি করতেন। এক পর্যায়ে নানা ধরনের মানসিক যন্ত্রণার কারণে তিনি চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। এসব নির্যাতন ও প্ররোচনার কারণেই রিয়া দে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন বলে এজাহার উল্লেখ করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন ১৪ এপ্রিল সকালে রিয়া দে তার মায়ের মুঠোফোনে জানান, তার ছোট ভাই তমালকে রিয়া দে’র বাসায় এসে তার দুই বছরের কন্যাকে মায়ের বাসায় নিয়ে যেতে। পরে ভাই তমাল সকাল সাড়ে ৮টায় এসে রিয়ার মেয়েকে মায়ের বাসায় নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে রিয়ার স্বামী রাজন দাশ সাড়ে ১১টায় রিয়ার মা ঝুমা দে’র মুঠোফোনে জানান, রিয়া দে বাথরুমের ভেতরে দরজা বন্ধ করে শাওয়ারের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। রিয়াকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে স্বামী এবং শ্বশুর বাড়ির লোকজন মিলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এখবর শোনার পর রিয়ার পরিবারের লোকজন হাসপাতালে যান। যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক রিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। এঘটনায় রিয়া দে’র মা পরেদিন সন্ধ্যায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে নিহত রিয়ার মা ঝুমা দে বাদী হয়ে স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবরের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করিলে মামলা হিসেবে আমলে নেয় পুলিশ। মামলা পরবর্তীতে পুলিশ স্বামী রাজন দাশ ও শ্বশুর রনধীর দাশকে গ্রেফতার করে।

এদিকে নিহতের পরিবারের দাবি, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও প্ররোচনার ফলেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া কোতোয়ালি থানার এসআই মো. আশরাফ ছিদ্দিক বলেন, আত্মহত্যার প্ররোচনায় নিহতের মা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আমরা অভিযোগ আমলে নিয়ে নিহত রিয়ার স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

- Advertisement -spot_img
  • সর্বশেষ
  • পঠিত