শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬

৬ষ্ঠ সমাবর্তনে ৭ হাজার ৯৪৯ গ্র্যাজুয়েট পাচ্ছে আইআইইউসি

চ্যান্সেলর ও ভিসি পুরস্কার পাচ্ছেন ৬৪ শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)-এর ৬ষ্ঠ সমাবর্তন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত কর্মসূচি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী বলেন, সমাবর্তন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ একাডেমিক উৎসব। এই সমাবর্তনের মাধ্যমে আইআইইউসি থেকে ৭ হাজার ৯৪৯ জন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হবে।

ভাইস চ্যান্সেলর জানান, আগামী ৩১ জানুয়ারি (শনিবার) অনুষ্ঠিতব্য সমাবর্তনে ১৩ জন শিক্ষার্থীকে চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড এবং ৫১ জন শিক্ষার্থীকে ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, প্রথম সমাবর্তনে যেখানে মাত্র ১৯৫ জন গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন, সেখানে সময়ের ধারাবাহিকতায় আইআইইউসি এখন পর্যন্ত মোট ৪৫ হাজারের বেশি গ্র্যাজুয়েট উপহার দিয়েছে, যা দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বেসরকারি উদ্যোগে উচ্চশিক্ষা আজ দেশে একটি সফল ও গ্রহণযোগ্য মডেলে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম সেই অগ্রযাত্রার প্রথম সারির অংশীদার। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য হচ্ছে জ্ঞানের সঙ্গে নৈতিকতার সমন্বয় ঘটিয়ে মানবিক, দেশপ্রেমিক ও দক্ষ নাগরিক গড়ে তোলা।

আইআইইউসির একাডেমিক কাঠামো তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৬টি অনুষদের অধীনে ১৫টি বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এখানে ৩৪৫ জন সার্বক্ষণিক শিক্ষকসহ সাড়ে চার শতাধিক শিক্ষক পাঠদান করছেন, যাদের মধ্যে ৮৪ জন পিএইচডি ডিগ্রিধারী। ৫০ একর জমির ওপর নিজস্ব ক্যাম্পাসে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ বর্গফুট আয়তনের ৪২টি ভবনে একাডেমিক কার্যক্রম চলছে।

লাইব্রেরি ও গবেষণা সুবিধার বিষয়ে তিনি বলেন, আইআইইউসি লাইব্রেরিতে রয়েছে ১ লক্ষ ৩ হাজার ৯৯৫টি বই, ২ হাজার ৩৬৪টি জার্নাল এবং ৩৫ হাজার ৫০০টির বেশি ই-জার্নাল। আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধাসহ শিক্ষার্থীদের জন্য সব ধরনের একাডেমিক সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত, যাদের মধ্যে নেপাল, শ্রীলঙ্কা, চীন, সোমালিয়াসহ বিভিন্ন দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। আরও বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির অপেক্ষায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।

দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তার কথা তুলে ধরে ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, প্রতিবছর প্রায় ৭ কোটি টাকার বেশি আর্থিক সহায়তা ও বৃত্তি প্রদান করা হয়। এ লক্ষ্যে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার ডিভিশন নামে একটি পৃথক বিভাগ কাজ করছে।

গবেষণার ক্ষেত্রেও আইআইইউসি গুরুত্ব দিয়ে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গবেষণা ও প্রকাশনার জন্য সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন্স (সিআরপি) নামে একটি বিভাগ রয়েছে, যার বার্ষিক বাজেট এক কোটি টাকার বেশি। এ পর্যন্ত ১৮টি আন্তর্জাতিক একাডেমিক কনফারেন্স সফলভাবে আয়োজন করেছে আইআইইউসি। সর্বশেষ ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৮তম আন্তর্জাতিক কনফারেন্স, যেখানে বিশ্বের ৮টি দেশের ১৭২ জন গবেষক অংশগ্রহণ করেন।

র‍্যাংকিংয়ের দিক থেকেও আইআইইউসির অবস্থান তুলে ধরে তিনি জানান, স্কোপাস ও ওয়েব অব সায়েন্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূচকে বাংলাদেশের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আইআইইউসি প্রথম অবস্থানে রয়েছে। বিশ্বে ২৮টি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এর অবস্থান ১৪তম। ২০২৫ সালের এসসিআইমাগো র‍্যাংকিং অনুযায়ী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আইআইইউসি তৃতীয় এবং সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একাদশ স্থানে রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আইআইইউসির ট্রেজারার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, রেজিস্ট্রার কর্নেল মোহাম্মদ কাসেম (অব.) এবং কনভোকেশন-২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জনসংযোগ বিভাগের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোসতাক খন্দকার।

- Advertisement -spot_img
  • সর্বশেষ
  • পঠিত