দরপতনের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না দেশের শেয়ারবাজার। আগের কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। এ নিয়ে গত ১০ কার্যদিবসের মধ্যে নয় দিনই শেয়ারবাজারে সূচকের পতন হলো।
সূচকের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের গতিও কমেছে। মঙ্গলবার লেনদেন ৫০০ কোটি টাকার ঘরে নেমে এসেছে, যা চলতি বছরের ৬ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন। মূল্যসূচক ও লেনদেন কমলেও ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল বেশি। তবে সিএসইতে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। সেখানে দাম কমার তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাই বেশি।
দিনের লেনদেন শেষে মূল্যসূচক কমলেও দিনের শুরুটা ছিলো বেশ ভালো। ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মিলে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক এক পর্যায়ে ৩৭ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এমনকি লেনদেনের প্রথম আড়াই ঘণ্টা শেষেও মূল্যসূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকে।
কিন্তু শেষ আধাঘণ্টার লেনদেনের ওপর নির্ভর করে মূল্যসূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। বড় মূলধনের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম যাওয়ায় দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পরও মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসই ১৭৫টি প্রতিষ্ঠান দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ১৫২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। আর ৬৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৯২টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৮২টির দাম কমেছে এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩৬টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩২টির এবং ৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪৭টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৮টির এবং ৩৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর ১২টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ৮টির দাম কমেছে এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় পরও ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩ পয়েন্ট পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৬৪০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৪ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১২৬ পয়েন্টে নেমে গেছে। তবে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১২৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
প্রধান মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫০৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৬০১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৯৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে চলতি বছরের ৬ এপ্রিলের পর বাজারটিতে সব থেকে কম লেনদেন হলো। ৬ এপ্রিল লেনদেন হয় ৪৭০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৫ কোটি ২৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার। ১৯ কোটি ২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- সামিট অ্যালায়েন্স, পোর্ট, রানার অটোমোবাইল, এমএল ডাইং, সিটি ব্যাংক, বেক্সিমকো, লাভেলো আইসক্রিম এবং ফাড় কেমিক্যাল।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৯টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১১৯টির দাম কমেছে এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৯৩ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ৪ কোটি টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

