সহকারী কোচের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায় টিম হোটেলে পুলিশ ডাকা, এরপর ভিডিও বার্তায় নিরাপদবোধ করছি না বলা- সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে) চরম অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছিলেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের হেড কোচ জেরার্ড জোন্স। অবশেষে আজ তাঁকে বরখাস্ত করেছে বাফুফে।
জোন্সকে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাফুফের একাধিক সূত্র।
আগামীকাল এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাই খেলতে দেশ ছাড়ার কথা বাংলাদেশের। তার আগে জোন্সকে বরখাস্ত করল বাফুফে।
উজবেকিস্তানে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব খেলতে যাওয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই গত বুধবার টিম হোটেলে জেরার্ড জোন্স ও সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশু মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে জেরার্ড ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ টিম হোটেলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেয় বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটি। দলের ম্যানেজার সামিদ কাশেমও জানিয়েছিলেন, কমিটি বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে এবং দ্রুত সমাধানের আশা করছেন।
এর মধ্যেই সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তা দিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন জেরার্ড। কর্মক্ষেত্রে শারীরিক হামলার শিকার হয়েছেন দাবি করে নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কার কথা জানান তিনি।
জেরার্ড জোন্স গতকাল নিজের ফেসবুকে বলেন, ‘কর্মক্ষেত্রে আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আত্মরক্ষার্থেই আমাকে পুলিশ ডাকতে হয়েছিল। আমি বাফুফেকে (বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন) আমার প্রাপ্ত আঘাতের ছবি পাঠিয়ে বিষয়টি জানিয়েছিলাম, কিন্তু সেখান থেকে কোনো সাহায্য বা সমর্থন পাইনি। আমি এখনও নিরাপদবোধ করছি না। এমন একটি দেশে আছি যেখানে প্রতিনিয়ত সাহায্যের জন্য আকুতি জানাতে হচ্ছে।’
সহকারী কোচের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টিও অস্বীকার করেন জোন্স। তাঁর দাবি, সহকারী কোচের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বরং ভালো।
জোন্স বলেন, ‘তাঁর সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই। আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। আমরা হাসাহাসি করি, একে অপরের রুমে যাতায়াত করি এবং ম্যাচে কৌশলগত বিষয় শেয়ার করি। কিন্তু একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে।’
নিজের দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি কখনো হননি বলেও দাবি করেন এই ব্রিটিশ কোচ।
তিনি বলেন, ‘আমার পুরো ক্যারিয়ারে কখনোই কাজের জায়গায় শারীরিক আক্রমণের শিকার হতে হয়নি বা সুরক্ষার জন্য পুলিশ কিংবা ব্রিটিশ দূতাবাসের সহায়তা নিতে হয়নি। যখন এএফসি প্রতিযোগিতায় ভালো কিছু করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে, তখন কেন এমনটা করা হচ্ছে তা বোধগম্য নয়।’
যদিও ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন এক কথা আর কাজ করেছেন অন্য। একবার নিজেই বলেন মিডিয়ায় যা এসেছে সেগুলো ভুল, পরক্ষণেই আবার তাঁর সত্যতা মেলে ওই হাতাহাতির ঘটনার।
এর আগে বাফুফের বেতন না পাওয়া নিয়ে তাঁর পরিবারের আর্থিক সঙ্কটের খবর ফেসবুক পোস্ট দিয়েছিলেন জোন্স। অথচ যথা সময়ে তাঁর অ্যাকাউন্টে বেতনের টাকা জমা করে ফেডারেশন।
জোন্স নতুন করে যে বাংলাদেশে নিরাপত্তার কথা বলছেন সেটাও কতটা যৌক্তিক? কারণ তারই স্বদেশী পিটার বাটলার নারী দলের হেড কোচ হিসেবে আছেন, এছাড়া জাতীয় দলের হেড কোচ হিসেবে কাজ করছেন থমাস ডুলি।
দেশের ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদেশি কোচরা কাজ করছেন। আর্চারি ফেডারেশনে প্রায় ৮ বছর ধরে কাজ করছেন মার্টিন ফ্রেডরিক। তারা কখনও নিরাপত্তা নিয়ে আহাজারি করেননি।
তবে জেরার্ডের এসব বক্তব্যের পরই তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। সূত্রের দাবি, হাতাহাতির ঘটনায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাফুফে।
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের সামনে এখন বড় পরীক্ষা। আগামী ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তানে শুরু হবে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব। বাংলাদেশের কাল দেশ ছাড়ার কথা। গত জুনে জোন্সের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করে বাফুফে।

