দেশের মানুষের ভাগ্য বদলানোর নানা পরিকল্পনায় বাধা আসছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে আমরা দেখছি কিছু সংখ্যক মানুষ আছে, এই বাংলাদেশে কতগুলো রাজনৈতিক দল আছে, আমরা দেখছি তারা রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। যেভাবে তারা স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল।
রোববার (৯ আগস্ট) হাটহাজারী কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং ভূমি ও পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন।
প্রধানমন্ত্রী ছিয়াশি সালে স্বৈরাচারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে গুপ্ত বাহিনীও জাতীয় বেইমান হিসেবে আখ্যায়িত হওয়ার কথাও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, এই গুপ্ত বাহিনীকে পরবর্তীতে দেখেছি ৯৬ সালে আমার দেশের মানুষের সাথে গাদ্দারি করে স্বৈরাচারের সাথে হাত মিলিয়েছিল। গণতন্ত্রের বিপক্ষে তারা অবস্থান করেছিল।
আজকে আবারও গুপ্ত বাহিনীকে আমরা দেখছি তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে, মানুষের সামনে মিথ্যা কথা বলছে, তারা বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে।
সমবেত জনতার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা চট্টগ্রামের মানুষ। এই চট্টগ্রামে দেশি বিদেশি বহু মানুষের কলকারখানা বিনিয়োগের কলকারখানা আছে। আপনারা খুব ভালো করেই জানেন আপনাদের চট্টগ্রামের মানুষ ব্যবসার সাথে বিভিন্নভাবে জড়িত। চট্টগ্রামের মানুষ দেশের অন্যান্য জায়গার তুলনায় এখানে বেশি ব্যবসা বাণিজ্য করে। যেহেতু আপনারা ব্যবসা বাণিজ্য করেন, আপনারা জানেন ব্যবসা করতে হলে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দরকার। কারণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ হলে ব্যবসায়ীরা ভালোভাবে কাজ করতে পারে। সে দেশিই হোক বিদেশিই হোক ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করতে পারে। যদি দেশে শিল্পকারখানা গড়ে ওঠে, ব্যবসা সম্প্রসারিত হয়, তাহলে আমার দেশের সন্তানেরা সেখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে। আমার দেশের নারীরা সেখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে। ফলে দেশের মানুষের আয় উন্নতি বাড়বে, দেশের মানুষের ভাগ্যের চাকা আস্তে আস্তে পরিবর্তিত হবে। কিন্তু আমরা দেখছি, একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্নভাবে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, আমরা জানি বিগত স্বৈরাচার ফ্যাসিবাদের সময় বাংলাদেশের গ্যাস, বিদ্যুৎ এসব নিয়ে তারা বিভিন্ন রকম পরিকল্পনা করেছে, যে পরিকল্পনা মানুষের কাজে আসে নাই। যে পরিকল্পনা ভালো ছিল না দেশের জন্য। কাউকে হয়তো বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য তাদের পক্ষে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। আমরা তাদের যে অপরিকল্পিত পরিকল্পনা ছিল সেগুলোর জন্য আমরা কাজ করছি। ইনশাআল্লাহ শিগগির আমরা বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সারা দেশের মানুষের কাছে উপস্থাপনা করব যে আগামী ১০ বছর আমাদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, আমাদের গ্যাস ব্যবস্থা কী হবে। যাতে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করতে পারে, ব্যবসায়ীরা যাতে আশ্বস্ত হতে পারে- এদেশে বিদ্যুৎ গ্যাস সব কিছু থাকবে। মানুষকে বিভ্রান্ত করে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করছে একটি রাজনৈতিক দল। আমরা যেখানে প্রতিদিন পরিশ্রম করছি দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কিছু সংখ্যক লোক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।
আপনারা ১২ তারিখের নির্বাচনে বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছিলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছিল। কারণ বাংলাদেশের মানুষ এ দেশে যদি মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য কেউ রাজনীতি করে থাকে সেটি একমাত্র শহীদ জিয়ার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, সেটি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দল।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে আপনারা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। কিন্তু কিছু সংখ্যক রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সেই কাজগুলোকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। আজকেই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, বাংলাদেশের সকল গণতন্ত্রকামী মানুষ, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, যারা কথা বলার স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে প্রত্যেকটি মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এই যে বিশৃঙ্খলাকারী যারা রাজপথ এসে রাজপথ বন্ধ করে দিতে চায় যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করব। আর বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া যাবে না, দেশের ভাগ্য নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া যাবে না। এখন সময় হচ্ছে দেশ গড়ার সময়। এখন সময় হচ্ছে জাতির ভাগ্য গঠনের সময়। কাজেই আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে আজকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে।
আমাদের দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। পৃথিবীর বহু দেশ আছে যে দেশগুলো আমাদের মতোন আমাদের সাথেই স্বাধীন হয়েছিল কিন্তু সেই দেশগুলো আজকে অনেক এগিয়ে চলে গেছে। কিন্তু বিভিন্ন চড়াই উতরাই পেরিয়েও আমরা সেই জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি। আজ আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা দেশের উন্নয়নে, মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে আজ আর কোনো বাধা মানব না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি হচ্ছে সেই দল যে দল দেশের জন্য রাজনীতি করে, দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করে। আমাদের সকল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ। কাজেই জনগণের সমর্থন যেহেতু বিএনপির পক্ষে দিয়েছে, ৩১ দফার পক্ষে রায় দিয়েছে। সেই ৩১ দফা বাস্তবায়ন করাই হচ্ছে এখন আমাদের মূল পবিত্র দায়িত্ব। কারণ জনগণ যখন ৩১ দফার পক্ষে রায় দিয়েছে এটি আর এখন বিএনপির ৩১ দফা নয়, এই ৩১ দফা হচ্ছে জনগণের দফা। কাজেই জনগণের দফা পূরণ করার জন্য দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে যারা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে, দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের পথে যারা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে তাদের আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।
এর আগে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলা সফরের অংশ হিসেবে রোববার বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে বাঁশখালী থেকে ফটিকছড়ি উপজেলায় পৌঁছেন। ফটিকছড়ি আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় প্রধানমন্ত্রী হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে হাটহাজারীতে হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জেয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী।

