বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির জন্য গবেষণায় প্রতিযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। তিনি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি প্রদান করে না, জ্ঞান সৃষ্টি করে এবং আলোকিত মানুষ গড়ে তোলে। তাই গবেষণার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আরও বেশি শেখানোর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) অডিটোরিয়ামে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাঈদ আল নোমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি প্রদানের ক্ষেত্র নয়। বিশ্ববিদ্যালয় আলোকিত মানুষ তৈরি করে। বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান শুধু বিতরণ করে না, জ্ঞান সৃষ্টি করে। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিযোগিতা হবে গবেষণার। কীভাবে শিক্ষার্থীদের আরও বেশি শেখানো যায় এবং আরও বেশি আলোকিত করা যায়, তা নিয়েই কাজ করতে হবে। সিভাসুতে সেই কাজগুলো হচ্ছে। এজন্যই এটি একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়।
তিনি বলেন, শিক্ষা শুধু জাতির মেরুদণ্ড নয়, শিক্ষা অক্সিজেন। অক্সিজেন ছাড়া আমরা বাঁচতে পারব না। জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের যে পথে চলার প্রেরণা দিয়েছে, সে পথে এগোতে হলে শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তা আলোকিত সমাজ নির্মাণে সহায়ক হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন কোনোভাবেই কলুষিত না হয়, সেদিকে সবাইকে নজর রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তার কাজ করতে পারে না। এজন্য শিক্ষক, প্রশাসক ও রাজনীতিবিদদের যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব যোদ্ধার লক্ষ্য ছিল সমাজ পরিবর্তনের মাধ্যমে জাতি গঠন। আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে শুধু অনুসারী নয়, চিন্তার নেতা তৈরি হবে।
সিভাসুর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. নূরুল হক, পরিচালক (বহিরাঙ্গন কার্যক্রম) অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. সাইফুদ্দিন, ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রাশেদুল আলম, সিভাসু অফিসার সমিতির সভাপতি খলিলুর রহমান এবং সিভাসু শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার হোসেন তালুকদার।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক নাঈমা ফেরদৌসী হক ও ড. মেহের নাহিদ। শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত দুটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

