মঙ্গলবার, এপ্রিল ২১, ২০২৬

চট্টগ্রামে সেলিম-তৈয়ব ভোটযুদ্ধ, ১৬১ ভোটারের বাদ পড়া নিয়ে ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) পরিচালনা পর্ষদ (২০২৫-২০২৭) নির্বাচন আগামী ৩১ মে। নির্বাচন ঘিরে সদস্য হালনাগাদ কার্যক্রমে সদস্যপদ হারিয়েছেন ৫৮২ জন। এর মধ্যে ১৬১ জন বাদ পড়েছেন চট্টগ্রাম থেকেই। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ সংগঠনটির অনেক সদস্য। এছাড়া ঐতিহ্য ভেঙে নির্বাচন এবার নিজস্ব ভবনের পরিবর্তে করা হচ্ছে পাঁচ তারকা হোটেলে। বিষয়টি নিয়েও অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বিজিএমইএ সূত্রে জানা যায়, সংগঠনটির গেল নির্বাচনে ভোটার ছিল ২ হাজার ৪৪৬ জন। এর মধ্যে ৪৬৪ জন চট্টগ্রামের। যা এবার কমে দাঁড়িয়েছে ১৮৬৪ জনে। চট্টগ্রামের ভোটার হিসেবে বহাল আছেন ৩০৩ জন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কলকারখানা পরিদর্শনের সনদ জটিলতায় অধিকাংশ সদস্য পদ নবায়ন করতে পারেননি।

অন্যদিকে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে ফোরাম ও সম্মিলিত পরিষদ। এর মধ্যে দুটি প্যানেলেই ৯ জন করে ১৮ জন প্রার্থী রয়েছেন চট্টগ্রাম থেকে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত প্রথম সহ-সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ‘সম্মিলিত পরিষদ’ থেকে ইন্ডিপেন্ডেন্ট এ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম আবু তৈয়ব এবং ফোরাম থেকে কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রহমান।

পরিচালক পদে ফোরাম থেকে মাঠে আছেন— ক্লিফটন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এমডিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, অ্যালার্ট ফ্যাশনের এমডি সাইফুল্লাহ মনসুর, চৌধুরী গ্রুপের এমডি রফিক চৌধুরী, এনআরসি নিট ফ্যাশনের এমডি আরশাদ উর রহমান, ফ্যাশন অব ওয়েলসের এমডি ওদুদ মোহাম্মদ চৌধুরী, নিড অ্যাপারেলসের চেয়ারম্যান রিয়াজ ওয়ায়েজ, কে গার্মেন্টসের এমডি বিজয় শেখর দাশ এবং প্রগ্রেসিভ অ্যাপারেলস ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মোরশেদ কাদের চৌধুরী।

এছাড়া একই পদে ‘সম্মিলিত পরিষদ’ থেকে লড়বেন— এইচকেসি এ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রকিবুল আলম চৌধুরী, আর.এস.বি. ইন্ডাস্ট্রিয়াল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন শেখর দাস, মদিনা ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মুসা, বিএসএ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাফিদ নবী, প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, আরডিএম এ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা সরোয়ার রিয়াদ, টপ স্টার ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আফসার হোসেন এবং সনেট গ্রুপের পরিচালক গাজী মো. শহীদুল্লাহ।

নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে চাইলে কোনো পক্ষ এই মুহূর্তে কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে কথা বলেছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক এবং জামান গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসানুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘বিজিএমইএ কোনো ক্লাব না। এটি একটি ব্যবসায়ী সংগঠন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিটিও আইন মেনে এখানে সদস্য করা হয়। কিন্তু এবার বাড়তি কলকারখানা অধিদপ্তরের নবায়ন করা সনদ জমা দেওয়ার নিয়ম বাধ্যতামূলক করায় অনেকে সদস্যপদ পাননি।’

যারা পাননি, তারা কি ব্যবসায়ী নন?-প্রশ্ন রেখে হাসানুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘ওই দলে তৈরি পোশাক খাতের প্রথমদিকের অনেক ব্যবসায়ীরাও আছেন। অনেকে রুগ্ন অবস্থায় আছেন, যাদের ব্যাংক লোনের কারণে ট্রেড লাইসেন্সও রিনিউ করতে পারেননি। এখন আমরা কি তাদের ভুলে যাবো?’

সদস্যপদ পুনর্বহাল করার দাবি রেখে এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘বিজিএমইএর ফি দিয়ে সবাই তাদের সদস্যপদ রেখেছেন। তারা শুধু ভোট দেওয়ার জন্য ফি দিয়ে সদস্যপদ রাখেননি! এখন তো বিজিএমইএ পরিচালনা করছেন একজন আমলা। উনাকে ভুল বুঝিয়ে এভাবে সদস্যপদ বাতিল করাটা ঠিক হয়নি।’

একই সুরে কথা বললেন ইউনিট্যাক্স এটিরিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ উল্লাহ। তিনি বলেন, ‘বিজিএমএই চট্টগ্রামের ঐতিহ্য, নিজস্ব ভবনে নির্বাচন আয়োজন করা। প্রতিবার তা করা হলেও এবার এর ব্যতিক্রম হয়েছে। এতে বাড়তি ব্যয় করা হচ্ছে, যা অপচয় বললে ভুল কিছু হবে না।’

ফ্র্যাংক এপ্যায়ারেল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিরউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রামে নির্বাচন প্রতিবছর আমাদের নিজস্ব ভবনে হয়। এতে নিরাপত্তা বা অন্য কোনো ইস্যু নেই। ঢাকায় আমাদের অফিসটা উত্তরার দিকে, যা বেশ কিছুটা দূরে। তাই ওখানকার নির্বাচন গতবার এবং এর আগেও হোটেল রেডিসনে হয়েছিল।’

বিষয়টি বর্তমান প্রশাসককেও বলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওনি ঢাকা-চট্টগ্রাম দুই স্থানে নির্বাচনের ভেন্যু হোটেল রেডিসনে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই চট্টগ্রামেও এবার রেডিসনে চট্টগ্রামের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

নাসিরউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী আরও বলেন, ‘বিজিএমইএ তো আসলে ব্যবসায়ীদের সংগঠন। তাই ব্যবসায়িক নেতৃত্ব ঠিক করে নিবে আগামীতে কী হবে। এবার ব্যতিক্রম অনেক কিছুই হচ্ছে। ব্যবসায়ী নেতারা দায়িত্ব নেওয়ার পর সদস্য পদ এবং আমাদের ঐতিহ্য রক্ষায় যা করণীয় তা করবেন বলে আশা করছি। আপতত শুল্কযুদ্ধ বা ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া এসবও তাদের কাছে একটা চ্যালেঞ্জ।’

- Advertisement -spot_img
  • সর্বশেষ
  • পঠিত