শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬

চসিকের শিক্ষা খাতকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে: মেয়র ডা. শাহাদাত

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষা বিস্তারে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষা কার্যক্রমকে গতিশীল করতে লোকবল বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা সহায়ক খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে নগরীর শিক্ষাখাতকে ঢেলে সাজাতে সব ধরনের সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) টাইগারপাসস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) কার্যালয়ে সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত কাট্টলী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ৩ শিক্ষার্থী জনপ্রিয় মার্শাল আর্ট তায়কোয়ান্দো খেলায় এশিয়া ওপেন আইটিএফ তায়কোয়ান্দো-ডো চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫ (Asia Open ITF Taekwon-Do Championship 2025) প্রতিযোগিতায় পদক বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশের গৌরব বৃদ্ধি করায় পদকজয়ী শিক্ষার্থীদের চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ হতে সংবর্ধনা দেন মেয়র।

১৬-১৭ অগাস্ট চীনের নিংবো শহরে এ প্রতিযোগিতা হয়। পদক জয়ী তিনজন হলেন উম্মে সাইরা তানসি (স্বর্ণপদক), বৃন্তি দেবী দুষ্টু (রৌপ্যপদক) ও সারমিন আক্তার (ব্রোঞ্জ পদক)। তাদের মধ্যে উম্মে সাইরা তানসি কাট্টলী সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী, বৃন্তি দেবী দুষ্টু নবম শ্রেণির ছাত্রী এবং সারমিন আক্তার কলেজের শিক্ষার্থী।
সভায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া, অভিযোগ ও পরামর্শ তুলে ধরেন। এই প্রসঙ্গে তারা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নকর্মী প্রয়োজন। বর্তমানে জনবল সংকটের কারণে পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তারা দ্রুত নতুন পরিচ্ছন্নকর্মী নিয়োগের আহ্বান জানান। তাদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় ক্রমেই বাড়ছে। তাই খরচ মেটানোর জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। এ ছাড়া তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন অফিস সহকারী নিয়োগের দাবি জানান তারা। এ পদে দক্ষ জনবল থাকলে প্রশাসনিক কাজ আরও সহজ হবে জানান শিক্ষকবৃন্দ।

নিরাপত্তা সমস্যা তুলে ধরেন তারা বলেন, পর্যাপ্ত নাইটগার্ড না থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাতে নিরাপত্তার অভাব দেখা দেয়। প্রতিষ্ঠান ও মূল্যবান আসবাবপত্র রক্ষায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নাইটগার্ড নিয়োগ করা প্রয়োজন। এতে করে প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।

এছাড়া অবসরের পর শিক্ষক ও কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেনশন ব্যবস্থা চালুর জোর দাবি জানান তারা। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের সেবা শেষে অবসরে গিয়ে ন্যূনতম আর্থিক সুরক্ষা না পাওয়া অত্যন্ত কষ্টদায়ক।

সভায় মেয়র বলেন, আপনারা যে পরিমাণে কষ্ট করেন, তার তুলনায় আমরা হয়তো খুব বেশি কিছু করতে পারছি না। তবে আপনারা যে আন্তরিকভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন, এজন্য আমি আপনাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। শিক্ষা খাতের নানা সমস্যা রয়েছে, তবে ধাপে ধাপে আমরা সেগুলোর সমাধান করব। ইতিমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং সেগুলো বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে।

প্রতিষ্ঠানের  প্রধানগণের প্রশ্নের  জবাবে তিনি বলেন, আপনাদের উপস্থাপিত সমস্যাসমূহ, আপনাদের বক্তব্যগুলো যৌক্তিক। তবে বাজেট সংকটের কারণে সবকিছু একসাথে সম্ভব হয় না। তবুও আমরা শিক্ষাখাতে বাজেট বৃদ্ধি করার চেষ্টা চালাচ্ছি। বর্তমানে চসিক বছরে প্রায় ৪৮ কোটি টাকা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করে থাকে। এটা ভর্তুকি নয়, বরং আমাদের জন্য একটি সম্পদ। শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড, তাই এই খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মেয়র জানান, রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে চসিক ইতোমধ্যেই বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথ জরিপের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি নতুন রাজস্ব উৎস সনাক্তকরণেরও চেষ্টা চলছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, চসিকের রাজস্ব আয় বাড়লে অনতিবিলম্বে কিছু বড় সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে। এছাড়া শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের বিষয়েও শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সভায় ঘোষণা দেন মেয়র।
মেয়র শিক্ষার্থীদের মনোবিকাশে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কাজে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করার জন্য শিক্ষকদের অনুরোধ করেন। মেয়র শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিকতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধ বিকাশে শিক্ষকদের কাজ করার আহবান জানান।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, শিক্ষা কর্মকর্তা মোছাম্মৎ রাশেদা আক্তারসহ চসিকের সকল প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষবৃন্দ ও প্রধান শিক্ষকবৃন্দ।

 

- Advertisement -spot_img
  • সর্বশেষ
  • পঠিত