শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬

সমালোচিত তন্ময়কে প্যানেল থেকে বাদ দেয়া হলো

নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যাপক সমালোচনার মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য প্রার্থী জয়েন উদ্দিন সরকার তন্ময়কে বাদ দেয়া হয়েছে। তার লেখা একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তা নিয়ে সব মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। স্ট্যাটাসে তিনি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, ‘একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পাকিস্তান থেকে বিমান ছিনতাই করে ভারতে নিয়ে যেতে চাচ্ছিল।’ এই স্ট্যাটাস ঘিরে সমালোচনার জেরে তাকে শিবিরের প্যানেল থেকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ডাকসু নির্বাচনের জন্য ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্রচারণার জন্য বানানো ব্যানার থেকেও তন্ময়ের ছবি সরিয়ে নেয়া হয়। যদিও প্যানেল থেকে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্তের আগে স্ট্যাটাসের বিষয়ে তন্ময় বিষয়টিকে ভিত্তিহীন, অমূলক, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্ট্যাটাসটি ছিল- রশিদ মিনহাজ। মাত্র ২১ বছর বয়সে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষার জন্য শহীদ হন। সে শিক্ষানবিশ ছিল মাত্র। একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পাকিস্তান থেকে বিমান ছিনতাই করে ভারতে নিয়ে যেতে চাচ্ছিল। প্রশিক্ষকের ক্ষমতাবলে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেয় ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট। কিন্তু মিনহাজ খেয়াল করলো বিমান ভারতমুখী করে নিয়েছে। ভারতের সীমান্তে যাওয়ার জন্য মাত্র ৩২ মাইল দূরে। মিনহাজ চিন্তা করলো- বিমান ভারতে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেয়ে ক্র্যাশ করে ধ্বংস করে দেয়া উত্তম। মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও সমস্ত শক্তি দিয়ে বিমান বিধ্বস্ত করলো মিনহাজ। নিজ দেশের যুদ্ধবিমান যেতে দেয়নি ভারতে, শহীদ হয়ে যায় মিনহাজ।

ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ছিলেন বাংলাদেশের বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত মতিউর রহমান।
এই স্ট্যাটাসটি ভাইরাল হওয়ার পর শুক্রবার ফেসবুকে তন্ময় লেখেন, যে পোস্ট আমি ছয় মাস আগে দিয়েছিলাম, আর বক্তব্যও প্রত্যাহার করে ক্ল্যারিফিকেশন দিয়েছিলাম সেটাকে রসকষ মাখিয়ে প্রচার করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমার শব্দচয়ন প্রবলেমেটিক ছিল, বক্তব্যের উপস্থাপন অনিচ্ছাকৃতভাবেই পজিটিভ হয় নাই, কন্টেক্সটও ভিন্ন ছিল। আমি আমার অবস্থানে অটল ছিলাম না বিধায়ই পোস্ট সরাইয়া নিছিলাম। যেখানে হাসিনাকে ভয় না পাইয়া গত ১০ বছর যাবৎ প্রত্যক্ষ আন্দোলন করছি, ‘প্রবলেম হবে পোস্ট ডিলিট করো’ শুনি নাই, সেখানে এখন কার ভয়ে পোস্ট সরাবো! আমি বুঝেছিলাম ভুল মেসেজ যায়, তাই সরিয়েছিলাম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জয়েন উদ্দিন সরকার তন্ময় মানবজমিনকে বলেন, বিষয়টি ভিত্তিহীন, অমূলক, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছাড়া কিছুই নয়। জাতীয় বীরদের সম্মান করেই রাজনীতি করছি। তাদের হেয়-প্রতিপন্ন করার কোনো সুযোগ নেই। ডাকসু-তে আমার জনপ্রিয়তাকে হিংসা করে একটা গোষ্ঠী বিশেষত পতিত স্বৈরাচার বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। মূলত আওয়ামী দোসররাই বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ব্যাপারে নেগেটিভ ইম্প্রেশন তৈরি করতে ঢালাওভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি তার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।

শুক্রবার রাতে ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’র পক্ষ থেকে সমালোচনার জেরে তন্ময়কে সরিয়ে দেয়ার বিষয়টি জানানো হয় এবং প্রচারণার জন্য বানানো ব্যানার থেকেও তার ছবি সরিয়ে নেয়া হয়। যদিও ঢাবি’র শিবিরের ক্রীড়া সম্পাদক মিফতাহুল মারুফ মানবজমিনকে জানিয়েছেন, তন্ময় ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে প্যানেল থেকে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

- Advertisement -spot_img
  • সর্বশেষ
  • পঠিত