বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়ার পথে কোনো বাধা দেখছি না। যেহেতু বাধা দেখছি না, সেহেতু এটা না–ও হতে পারে, সেই দুশ্চিন্তা করার কোনো কারণ নেই। আমরা অপেক্ষা করছি, আশা করব শিগগিরই সরকার এ ব্যাপারে তাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য নিয়ে আসবে এবং নির্বাচন কমিশনকে সেই অনুযায়ী পরামর্শ দেবেন।
শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার মহাপরিচালকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, মাদ্রাসার দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ হয়েছে। অতীতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁদের ভূমিকা আপনাদের জানা আছে। বিএনপির নেতৃত্বে ১৬ বছর ধরে চলা আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছেন, সবচেয়ে বেশি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। তবুও সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা লড়াই চালিয়ে গেছি।তিনি আরও বলেন, এই দাবিকে সামনে রেখে আলোচনা চলছে। গঠিত হয়েছে একটি ঐক্যবদ্ধ সংস্কার কমিশন। বিএনপির পক্ষ থেকে সেখানে জনাব সালাউদ্দিন আহমেদসহ কয়েকজন প্রতিনিধি কাজ করছেন। ‘জুলাই সনদ’-এর খসড়ায় দলের পক্ষ থেকে মতামতও দেওয়া হয়েছে। আশা করি, এটি শিগগিরই প্রকাশিত হবে।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই জুলাই সনদ স্বাক্ষর হবে। তবে ৫১টি বাদে বাকি সব সুপারিশে ঐক্যমত কমিশনের সাথে কোনো দ্বিমত নেই বিএনপির। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মইনুল ইসলাম মাদ্রাসা পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পরে সালাউদ্দিন আহম্মদ হেফাজতের আমীর আল্লামা বাবু নগরী সাথে দেখা করে সাংবাদিকদের বলেন, এটা কোন রাজনীতি কর্মসূচি নয় হেফাজতের আমির আমাদের সকলের মুরুব্বী আমরা তাকে দেখতে এসেছি। আমাদের কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। বিগত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকার হটানো আন্দোলনে হেফাজতের ভূমিকা অস্বীকার করতে পারবে না। অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও বিগত ১৬ বছর যে অত্যাচার, হামলা, মামলা স্বীকার হয়েছেন তাদের অবদান অস্বীকার করার নয়। শাপলা চত্বরে যে হত্যার শিকার হয়েছিল তা পৃথিবীর ইতিহাসে নেই। এমন পরিস্থিতিতে আমরা মনে করি যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা প্রয়োজন । সকলের শক্তি নিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই আমরা।
এর আগে হাটহাজারীতে পৌঁছে সেখানে হেফাজতে ইসলামের প্রয়াত আমির মাওলানা শাহ আহমদ শফী ও জুনায়েদ বাবুনগরীর কবর জিয়ারত করেন বিএনপি এই দুই নেতা। পরে মাদ্রাসার মহাপরিচালক মুফতি খলিল আহমেদ কাশেমী এবং শায়খুল হাদীস শেখ আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, নজরুল ইসলাম খান বলেন হত্যা মামলা শিকার বিএনপি। ১৬ বছরে আন্দোলনের একটি দাবী পূরণ হয়েছে মাত্র। গণতন্ত্রকে পূর্ণ প্রতিষ্ঠা দেওয়া আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি।
তিনি বলেন ২৪ জুলাই আগস্ট এর গণহত্যাও গণঅভ্যুত্থানে যারা নিহত হয়েছেন তাদের শ্রদ্ধা জানাই। ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে হেফাজতের উপর যে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল সরকার তার এখনো কোন বিচার হয়নি। অনেক লাশের কবরের খোঁজ পাওয়া যায়নি এবং নিহতদের তালিকা পাওয়া যাইনি। ঐ সময় আন্দোলনের নেতৃত্ব দানকারী বাংলাদেশের অন্যতম আলেম আল্লামা শফি সাহেব ও আল্লামা বাবুনগরীর কবর জিয়ারত করতে এসেছি।

তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর ধরে মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। অনেক তরুণ আছেন, যাদের বয়স কম, কিন্তু ভোটার হয়েছেন অনেক দিন আগে—তবুও আজ পর্যন্ত তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। তারা সেই অধিকার প্রয়োগ করতে চান। রাষ্ট্র পরিচালনায় নিজেদের মতামত জানাতে চান। এটি তাদের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক অধিকার। এই অধিকার অর্জনের জন্যই হাজার হাজার মানুষ কারারুদ্ধ হয়েছেন, প্রাণ দিয়েছেন, নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।
হাটহাজারী মাদ্রাসায় জুমার নামাজ আদায় শেষে সেখানে দুপুরের আহার করেন বিএনপির নেতারা। পরে তাঁরা চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম মাদ্রাসায় হেফাজত ইসলামের আমির মাওলানা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।পরে মাদ্রাসা মিলনায়তনে মাদ্রাসাটির সর্ব প্রধান শায়খুল হাদিস শেখ আহমেদ, মাদ্রাসার মহাপরিচালক মুফতি খলিল আহমেদ কাসেমীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বিএনপির এই দুই নেতা।
বিএনপির দুই স্থায়ী কমিটির সঙ্গে দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মীর হেলাল উদ্দিন, উত্তর জেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির নেতা নূর মোহাম্মদ, সরোয়ার আলমগীর; দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব হেলাল উদ্দিন,হাটহাজারী পৌর সভা বিএনপির আহবায়ক মোহাম্মদ জাকের হোসেন,উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব গিয়াস চেয়ারম্যান,বিএনপি নেতা ওয়াহীদুল আলম,আবদুস শুক্কুর, জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম,জাসাস চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি কাজী সাইফুল ইসলাম যুবদল নেতা ফকরুল,কবির হোসেন সহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

