শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা বিএনপি’র- আমির খসরু

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন,জুলাই-আগস্টের আন্দোলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের, যুবদলের, শ্রমিক দলের, ছাত্রদলের, স্বেচ্ছাসেবক দলের, সমস্ত অঙ্গসংগঠনের। সবচেয়ে বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে, বিএনপির সাথে সম্পর্কিত যারা রাজনীতি করেছেন তারা। যারা জেলে গেছে, তাদের নব্বই শতাংশ ছিল বিএনপির। চট্টগ্রামে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী তিনি এ কথা বলেন।

তিনি শনিবার (২৬ জুলাই) বিকালে নগরীর জিইসি মোড়স্থ জিইসি কনভেনশন সেন্টারে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ চট্টগ্রাম শাখার উদ্যোগে জুলাই আগষ্ট গনঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পেশাজীবী মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহবায়ক জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে ও আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব এড. হাসান আলী চৌধুরী এবং মহানগর ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক ডা. ইফতেখার ইসলাম লিটনের পরিচালনায় এতে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদের কেন্দ্রীয় আহবায়ক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হক।

তিনি নেতাকর্মীদের বলবো- অপরের সাথে দ্বিমত করেও তার মতের প্রতি সম্মান জানাবেন, অসুবিধা নেই। আমর তো যুদ্ধক্ষেত্রে নেই, আমাদের দেশ গড়তে হবে। নির্বাচনের পর তো আমাদের দেশটাকে গড়তে হবে। জিয়াউর রহমান সাহেব যেভাব দেশ গড়েছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যেভাবে দেশ গড়েছেন, তারেক রহমান সাহেব দেশ গড়ার যে স্বপ্ন জাতির সামনে তুলে ধরছেন, সেই গল্প জনগণকে বলতে হবে, দেশবাসীর সামনে ৩১ দফার গল্প তুলে ধরতে হবে।
আমির খসরু বলেন, চরম কঠিন একটা সময় আমরা সবাই অতিক্রম করেছি বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা, এই কথাগুলো জুলাই-আগস্টের আলোচনায় কোথাও আসছে না। শহিদ ওয়াসিমের নামটা পর্যন্ত আমি ঢাকায় কোথাও দেখি না। যে জুলাই আন্দোলনে প্রথম শহিদ ওয়াসিম, তার নামটা কোথাও আলোচনায় নেই। এটা নিয়ে আমরা বাড়াবাড়ি করিনি, কারণ এই বিপ্লব, এই আন্দোলনকে আমরা বিএনপির কৃতিত্ব হিসেবে দেখাতে চাই না। সমস্ত জাতি, সবাই একসাথে আন্দোলন করে সরকারের পতন ঘটিয়েছে, আমরা সেটাকে সেভাবে দেখাতে চেয়েছি। কৃতিত্বের দাবিদার যে সবচেয়ে বেশি বিএনপি, এটা আজ পর্যন্ত তারেক রহমান সাহেবও বলেননি, আমরাও বলিনি। একটাই কারণ- আন্দোলনকে দ্বিধাবিভক্ত আমরা করতে চাই না। আন্দোলনে বিভাজন আমরা করতে চাই না। আমরা এ আন্দোলনকে দেশের সকল মানুষের আন্দোলন হিসেবে দেখাতে চেয়েছি, যে কারণে বিএনপি কখনো কৃতিত্ব দাবি করে না এবং করবেও না। এটা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের আন্দোলন হিসেবে আমরা আখ্যা দিয়েছি।
তিনি বলেন,গত ১৬ বছর আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে, তাদের অনেকে আবার ভুলে যেতে বসেছে। এখন জুলাই-আগস্ট নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে, তাতে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে যে মানুষগুলো একটা কঠিন সময়ের মধ্যে, তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস হয়ে গেছে, এদের পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে, এরা চাকরিচ্যুত হয়েছে, এরা বাড়িঘরে থাকতে পারেনি, এরা বেশিরভাগ সময় কোর্ট-কাচারিতে কাটিয়েছে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছর বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নভাবে সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদের আয়োজনে অংশগ্রহণ করেছি। দেশের ইতিহাসে প্রত্যেকটি আন্দোলনের পেছনে নানা ইতিহাস ছিল। এখন কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছে, জুলাই আগষ্টের গনঅভ্যুত্থান একমাসে শেষ হয়েছে। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, ৪৭ না হলে ৫২ হতো না, ৭১ না হলে ৭৫ এর সিপাহী জনতার বিপ্লব হতো না। এগুলো অস্বীকার করা যাবে না। এখন সকলেই কৃতিত্ব দাবী করে। ৭১ এ জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ছিল অন্যতম। কিন্তু তিনি কৃতত্ব চায়নি। অর্থাৎ আন্দোলন সংগ্রাম ও দেশ পরিচালনা একদিনে হয় না। এগুলো ধীরে ধীরে ডেবলেফ করে। একইভাবে ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাইদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মানুষের ক্ষোভ ফুটে উঠেছে।

তিনি বলেন, ভুয়া মামলার আমদানিকারক আওয়ামী লীগ। স্বাধীনতার আগে ‘কম্বলচোর’ শব্দ সম্পর্কে আমরা জানতাম না। সেগুলো এনে দিয়েছে তারাই। আজকে যারা মাসে মাসে টাকা নেয় সেটা হয় সহযোগিতা। আর কেউ যদি অনুষ্ঠানের জন্য টাকা নেয় সেটা আরেকটা নাম হয়ে যায়। আমাদেরও জানার আগ্রহ হয়, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য বদলানোর নামে বিদেশসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা নিয়েছেন। কিন্তু মানুষের কোন ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। পাল্টেছে সেই দল ও তাদের ভাগ্য। ফলে ৭১ পরবর্তী স্বৈরাচারের দোসর কারা ছিল, সেগুলো কি ভুলে গেছেন? মানুষ ভুলেনি। ওনারাই ৯৬ সালে আমাদের বিরুদ্ধে হরতাল করেছিল। স্বৈরাচারকে পুনর্বাসন করার জন্য পূর্বের ইতিহাসে যাদের ভূমিকা ছিল তারাই ওরা। তারাই এখন বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলেন। কাজেই বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে নিজেদের চেহারা আগে একবার আয়নায় দেখবেন। প্রতিযোগিতা থাকা ভালো, প্রতিহিংসা ভালো না। আমরা রাষ্ট্র সংস্কারে ৩১ দফা দিয়েছি। আপনারাও দেন। কিন্তু গায়ের জোরে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা যারা করছে তাদের কথা আমরা বলতে পারি না, সেই সিদ্ধান্ত জনগণ নিবে। ঐক্যের ডাক বিএনপিই দিয়েছে। ফলে অনৈক্য করলে জনগণই আপনাদের পেছনে ফেলে দিবেন।

এতে বক্তব্য রাখেন সন্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. নসরুল কদির, এ্যাবের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার জানে আলম সেলিম, সিএমইউজে’র সাবেক সভাপতি শামসুল হক হায়দরী, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহকারী মহাসচিব মুস্তাফা নঈম, বার কাউন্সিলের সদস্য এড. এ এস এম বদরুল আনোয়ার, সিএমইউজে’র সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, জেলা ড্যাবের সাবেক সভাপতি ডা. আশরাফুল কবির ভূইয়া, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. আবদুল সাত্তার, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহবায়ক এড. তারিক আহমেদ, মহানগর পিপি এড. মুফিজুল হক ভূইয়া, ড্যাব নেতা ডা. ঈসা চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মেজবাউল আলম, সিটি করপোরেশন কলেজ শিক্ষক সমিতির আহবায়ক আবদুল হক, ব্যাংকার মেহরাব হোসেন খান, ইঞ্জিনিয়ার মো. ওসমান, সিদ্দিক আল মামুন প্রমূখ।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এই ৩৬ দিনের আন্দোলন কোনো বিচ্ছিন্ন অভ্যুত্থান নয়, বরং এটি গত ১৬ বছরের লাগাতার আন্দোলনের ফল। এ আন্দোলনে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা, পেশাজীবীরা, যুবক নারী ছাত্র শ্রমিক সকলেই অংশগ্রহণ করেছে।

ফ্যাসিস্ট অপশক্তির বিচার দাবি করে তিনি বলেন, আমার নিজের বাসায় এবং ভাইয়ের বাসায় ৩ আগস্ট আগুন লাগানো হয়, গাড়ি ভাঙচুর হয়। আমার মা সেই আগুনে অবরুদ্ধ ছিলেন। অথচ এসব হামলার বিচার হয় না। অন্য কারো বাসায় তো আগুন লাগানো হয়নি। এভাবে যারা জনগণের উপর হামলে পড়েছিল তাদের বিচার চাই।

জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব কোন একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠির নয় বিধায় আন্দোলনের কৃতিত্ব হাইজ্যাকের অপচেষ্টাকারীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ৩৬ দিনের আন্দোলনকে হাইজ্যাক করার কোনো সুযোগ নেই। এটি বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ত্যাগ ও সংগ্রামের দীর্ঘ পথচলারই ফসল। সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরাই। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, মিথ্যা মামলা, কারাবরণ, সবখানেই আমরা এগিয়ে।

শেষে মেয়র বলেন, ওয়াসিম আকরামের নামে আমরা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে একটি পার্ক করেছি। বিমানবন্দরের কাছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একটি অংশও তাঁর নামে নামকরণ করা হয়েছে। ওয়াসিম আকরাম ইতিহাসে ও মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।

আলোচনা সভা শুরুর আগে আওয়ামী দুঃশাসন ও জুলাই আগষ্টের গনঅভ্যুত্থানের উপর নির্মিত ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

- Advertisement -spot_img
  • সর্বশেষ
  • পঠিত