বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহারের কথা ভাবছে ইরানে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহারের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দিলে এই বোমা ব্যবহার করা হতে পারে বলে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে সিএনএন।

ইরানে এই বোমা ব্যবহার করা হলে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। তবে সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে এর কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বোমাটি বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম হলেও মাটির গভীরে থাকা সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য এটি যথেষ্ট কার্যকর নাও হতে পারে।

ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এলাকায় দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু উপাদান রাখা হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মনে করে। পাহাড়টির ভেতরে গ্রানাইটের স্তর দিয়ে সুরক্ষিত স্থাপনা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এ ধরনের গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় আঘাত হানার জন্য বোমাটির মাটির নিচে প্রবেশের ক্ষমতা যথেষ্ট নয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বোমাটির বিস্ফোরণ ব্যাপক এলাকা ধ্বংস করতে পারে। ফলে জনবসতির কাছাকাছি জ্বালানি অবকাঠামো বা অন্য স্থাপনায় এটি ব্যবহার করা হলে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এমন সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প খুঁজছে, যার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর পাশাপাশি নিজেদের বিজয় দাবি করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় প্রশাসনের ওপর চাপও বাড়ছে। তবে ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, নির্বাচনের আগে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেই। তার উপদেষ্টাদের কেউ কেউ অবশ্য মনে করছেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী সেই সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে।

হোয়াইট হাউস বলেছে, ইরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্প সব ধরনের বিকল্প খোলা রেখেছেন। পেন্টাগনও জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের সামরিক পরিস্থিতির পরিকল্পনা করা হয়।

সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ইরানকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করতে হলে স্থলবাহিনী পাঠিয়ে বড় ধরনের অভিযান চালাতে হতে পারে। এতে হাজার হাজার মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে। তবে ট্রাম্প ইরানে মার্কিন সেনা পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহ দেখাননি।

২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময় বোমাটি তৈরি করা হয়। এটি মাটিতে আঘাত করার আগেই বিস্ফোরিত হয়ে চারদিকে প্রচণ্ড চাপ ও বিস্ফোরণ ছড়িয়ে দেয়। শুরুতে শত্রুপক্ষের বড় সেনাদলকে আতঙ্কিত করা এবং আত্মসমর্পণে বাধ্য করার মতো মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব তৈরির লক্ষ্যেও অস্ত্রটি তৈরি করা হয়েছিল।

সূত্র: সিএনএন

 

- Advertisement -spot_img
  • সর্বশেষ
  • পঠিত