জন্মগত ত্রুটিজনিত কারণে শিশু মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক এবং হাসপাতালের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের ব্যাপারে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ।
রিতা ও সাইফুল দম্পতির একদিন বয়সী ছেলে সন্তান জন্ম থেকেই পেট ফুলে থাকা এবং মলত্যাগ না হওয়ার কারণে গত পহেলা জুলাই ২০২৬ চট্টগ্রাম মা শিশু ও জেনারেল হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগে ভর্তি হন। পরবর্তীতে রোগীর অবস্থা পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণ করে এবং এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টের ভিত্তিতে ৪ঠা জুলাই ২০২৬-এ রোগীর বাবা-মাকে অপারেশন সংক্রান্ত পূর্বাপর সকল বিষয় অবগত করে এবং তাদের পূর্ণ সম্মতিতে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অপারেশন চলাকালীন সময়ে রোগীর বাবাকে অপারেশন থিয়েটারে ডেকে রোগীর রোগ সম্বন্ধে (Hirschsprung disease) বিস্তারিত জানানো হয় এবং বৃহদান্ত্র থেকে একটি মাংসের টুকরা নিয়ে তা হিস্টোপ্যাথলজি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় এবং পেটে পায়খানার রাস্তা (Stoma) করে দেওয়া হয়। হিস্টোপ্যাথলজি পরীক্ষার রিপোর্টের মাধ্যমে Hirschsprung disease রোগটি প্রমাণিত হয়। পরবর্তীতে রোগীর অবস্থা বিবেচনায় রেখে তাকে ৬ই জুলাই ২০২৬ – এ এনআইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। রোগীর হার্টের ইকোকার্ডিওগ্রাফি পরীক্ষাতেও বেশকিছু জন্মগত ত্রুটি (Moderate Pulmonary hypertension, patent foramen ovale) পাওয়া যায়। এনআইসিইউতে থাকাকালীন সময়ে রোগীকে দেখে প্রতিনিয়ত এনআইসিইউ বিভাগ এবং শিশু সার্জারি বিভাগে কর্মরত ডাক্তাররা রোগীর বাবা-মাকে তাদের রোগীর অবস্থা সম্বন্ধে অবহিত করেছেন। পরবর্তীতে রোগীর জন্য গঠন করা মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরাও মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত রোগীর বাবা-মাকে বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন। রোগীর চিকিৎসার ব্যাপারে চিকিৎসকদের চেষ্টা ছিল শতভাগ এবং চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টার পরেও এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ই জুলাই ২০২৬-এ দিবাগত রাত ২:৩০মিনিটে শিশুটি ইন্তেকাল করেন। উল্লেখ্য যে, রোগীর চিকিৎসা চলাকালীন সময় হাসপাতাল থেকে অনেক ধরনের ওষুধ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়েছে। এতদসত্বেও রোগীর অভিভাবকরা দলবদ্ধভাবে দফায় দফায় কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হুমকি প্রদান ও গালিগালাজ করে এবং হাসপাতালে এক ভীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি করে। এমনকি রোগীর মৃত্যুর পরে তারা হাসপাতালের পাওনা লক্ষাধিক টাকার বিল বকেয়া রেখে রোগীর মৃতদেহ নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করে। এসব অন্যায় অনাচার করার পরও তারা বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়াসহ কিছু অনলাইন মিডিয়ায় তাদের মনগড়া বানোয়াট উদ্দেশ্য প্রণোদিত কথাবার্তা ছড়িয়ে স্বনামধন্য চিকিৎসকসহ চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের ভাবমূর্তি প্রতিনিয়ত ক্ষুন্ন করে চলেছে। যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও গর্হিত অপরাধ। চট্টগ্রামের আপামর জনসাধারণের সাহায্যে সহযোগিতায় স্বল্প মূল্যে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা প্রদানের নিশ্চয়তা দিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে চলা চট্টগ্রাম মা শিশু ও জেনারেল হাসপাতালের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো এবং ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।

