২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগে ১২ বছর সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার দখলে ছিল। সেই রেকর্ড ভাঙা-গড়ায় এবার ইঁদুর-বিড়াল দৌড় চলছে। লিওনেল মেসির ফাইনাল বাকি থাকায় সেই দৌড় এখনও শেষ হয়নি। তবে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোল ও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে গেলেন কিলিয়ান এমবাপে।
গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাতে ফ্রান্স-ইংল্যান্ডের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি ছিল অনেকটাই নিয়মরক্ষার। বিশ্বকাপের নিরিখে এই ম্যাচের গুরুত্ব থাকলেও, উভয় দলই ফাইনালে উঠতে না পারার হতাশা লুকিয়ে রাখতে পারছিল না। তাদের আক্ষেপ নিয়ে মায়ামি স্টেডিয়ামে গড়ায় বল। যেখানে বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিকে ৬-৪ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়ে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের তৃতীয় হয়েছে।
ম্যাচের ৪৮ ও ৬৬ মিনিটে মাইকেল ওলিসের অ্যাসিস্টে জোড়া গোল করেন এমবাপে। যার সুবাদে মেসিকে (৩৩ ম্যাচে ২১ গোল) টপকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২২ গোলের (২২ ম্যাচে) মালিক এখন ফরাসি এই তারকা, যা তাকে ২০২৬ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়েও সবার ওপরে তুলে দিয়েছে। চলতি আসরে এখন পর্যন্ত মেসির গোল ৮ এবং অ্যাসিস্ট ৪টি। অ্যাসিস্টের হিসাবে আর্জেন্টাইন মহাতারকা এগিয়েই ছিলেন।
ফ্রান্সের ম্যাচ বাকি থাকায় নিশ্চিন্তও থাকতে পারছিলেন না মেসি। ফলে ব্যক্তিগত অর্জনের লড়াইয়ে তারও নজর ছিল ইংল্যান্ড-ফ্রান্স ম্যাচে। তার চেয়ে অ্যাসিস্টে (৩) পিছিয়ে ছিলেন এমবাপে। সেই সংখ্যাটি আর বাড়াতে না পারলেও, এমবাপে জোড়া গোল করে আসরে নিজের স্কোরটা নিয়ে গেলেন ১০টিতে। বিশ্বের মাত্র চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের এক আসরে ন্যূনতম ১০ গোল করলেন এমবাপে।
এক আসরে সর্বোচ্চ ১৩ গোলের বিশ্বরেকর্ড আছে ফরাসি কিংবদন্তি জাস্টিন ফন্টেইনের, ১৯৭০ বিশ্বকাপে তিনি ওই কীর্তি গড়েন। এ ছাড়া হাঙ্গেরির স্যান্ডর কোচসিচ ১৯৫৪ আসরে ১১ এবং জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলার ১৯৭০ আসরে ১০ গোল করেন। বিশ্বকাপে ন্যূনতম ১০ গোলের সেই এলিট লিস্টে নিজের নাম লেখালেন এমবাপে।

