গত ৯ মে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। শপথ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে চমক দিয়েছিলেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। এরপর একের পর এক চমক দিচ্ছেন অভিনেতা। গেল কিছুদিন আগে অভিনেতার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ। তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন অভিনেতা।
একের পর এক বিজেপি নেতার সঙ্গে সাক্ষাতের জের ধরে গুঞ্জন উঠেছে রাজনীতিতে নাম লেখাচ্ছেন প্রসেনজিৎ। যদিও এ দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন অভিনেতা। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা শেষে বেরিয়ে এসে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘যাঁরা এসব বলছেন তাঁরা বিশ্বাস করুন আমার সঙ্গে কারও কোনো রাজনৈতিক কথা হয়নি। সেদিনও হয়নি, আজও হয়নি। আমাদের ইন্ডাস্ট্রির কথা হয়েছে। মহানায়ক উত্তম কুমারের বিষয়ে কথা হয়েছে। উত্তমজেঠুর (উত্তম কুমার) ১০০ বছর পূর্তি। তাঁকে নিয়ে কথা হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমাদের অনেক কথা থাকে, অনেক প্রয়োজন থাকে। সেই কথাগুলো বলার জন্য এসেছি।’
আগামীতে সরকারি কোনো দায়িত্ব প্রসেনজিৎকে দেওয়া হতে পারে কি— এমন প্রশ্নের জবাবে অভিনেতা বলেন, ‘এই বিষয়ে এখনই কিছু বলতে পারব না। এসব নিয়ে আলোচনাও হয়নি। সকলেই জানেন আমি আমার ইন্ডাস্ট্রির জন্য সবসময় আছি। রাত দুটোয় ডাকলেও আমাকে পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী যদি মনে করেন আমি কোনো একটা কমিটিতে থাকলে আমার ইন্ডাস্ট্রির সকলের উন্নতি হবে, তাহলে কেন আসব না? এটা তো আমার জায়গা।’
গেল ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কলকাতায় এসেছিলেন অমিত শাহ। এদিন প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জির বালিগঞ্জের বাড়িতে গিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অভিনেতার বাড়িতে আসার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, ‘বিখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেতা, পরিচালক ও লেখক প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জির সঙ্গে ওঁর বাসভবনে কিছুক্ষণ সময় কাটালাম। গত ১২ বছরে মোদি সরকারের বিশেষ জনসংযোগ অভিযানের ঐতিহাসিক সাফল্য সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করলাম।’
অমিত শাহের পোস্ট শেয়ার করে প্রসেনজিৎ লিখেছিলেন, ‘আপনাকে আমার বাড়িতে স্বাগত জানাতে পেরে আমি সত্যিই সম্মানিত বোধ করেছি। আপনার আন্তরিক আগমন এবং আমাকে উপহার হিসেবে দেওয়া বইগুলির জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনার সঙ্গে কাটানো সময় আমার কাছে অত্যন্ত স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আপনার সৌজন্যের নিদর্শন আমি সযত্নে লালন করব। আপনার আগমনে আমি গভীরভাবে সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ।’

