বারোটা বেজে গেছে। ব্যাস, দিবা শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলের গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখির মতো কিচির মিচির করতে করতে সবাই যার যার ক্লাসে যাচ্ছে। এই দৃশ্যটা দেখতে আমার বড্ড ভালো লাগে। ছেলেরা এখন ক্লাসে যাবে না, ওরা মাঠের কোনায় ব্যাগ ফেলে ফুটবল খেলব। এরপর ঘন্টা দিলে ক্লাসে যাবে। আর মেয়েরা তাদের বান্ধবীদের সাথে গল্প করতে করতে ক্লাসে যাবে। তবে যেদিন অ্যাসেম্বলি থাকে সেদিন স্কুলে ক্লাস শুরুর আগে হই হুল্লা, খেলাধুলা একটু কম হয়। কিছু ছেলেমেয়ে আছে অ্যাসেম্বলি করতে চায় না। দুপুর টাইমে বারোটার সময় কে চায় অ্যাসেম্বলি করতে। আর যেদিন অ্যাসেম্বলি থাকে না, সেদিন সবাই মুক্ত। ক্লাস শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত সবাই চেঁচামেচি, খেলাধুলার আর হই হুলা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এভাবে আমাদের স্কুল জীবনের এক একটা দিনের শুরু হয়।
তবে এই কোলাহল এর ভেতর আমার দিনটা আলাদা হয়ে ওঠে একটি মাত্র কারণে মাইশা। আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু।
মাইশা অন্য সেকশনে পড়ে। স্কুলে এসেই নিজের ক্লাসে ব্যাগ রেখে আমার ক্লাসের সামনে চলে আসে। এই দৃশ্যটা আমার প্রতিদিনের সবচেয়ে চেনা ও প্রিয় দৃশ্য।
আমরা বারান্দার এক কোণে দাঁড়িয়ে কখনো গ্রিলে হাত দিয়ে মাঠের দিকে তাকিয়ে থাকি, কখনো দেয়ালে হেলান দিয়ে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে গল্প করি। আমাদের মাঝে গল্প হয় প্রচুর—গতকালের অসমাপ্ত কথা, হোমওয়ার্কের চিন্তা, নিজেদের ক্লাসে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা… আরো কত কি!
ঘন্টা পড়ার আগের সেই কয়েক মিনিট আমি আর মাইশা খুব উপভোগ করি। শুধু আমরা নই, স্কুলের প্রত্যেক শিক্ষার্থীই উপভোগ করে। ক্লাসের ঘন্টা দিলে আমরা নিজ নিজ ক্লাসে চলে যাই। কিন্তু ক্লাস শুরুর আগের সেই ছোট্ট আনন্দের সময়টুকুই ক্লাসে মন ভালো রাখার মত শক্তি দেয়। এভাবেই কেটে যায় আমাদের স্কুল জীবনের ক্লাস শুরু হওয়ার আগের সময়টা।
লেখক: আফিপা আফরোজ
৭ম শ্রেণি, বিএএফ শাহীন কলেজ ঢাকা।

