আজ ১০ মার্চ ২০২৬ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “নারীর ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হলো। এটি কোনো সম্পত্তি নয়, মানুষের কল্যাণে বিশ্বাস।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে বেশ কয়েকজন নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। একজন উপকারভোগী রাশেদা জানান, তাঁর মোবাইল ওয়ালেট অ্যাকাউন্টে ভাতা পৌঁছেছে এবং তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। এটি দেখাচ্ছে, সঠিক বাস্তবায়ন ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সহায়তা দ্রুত এবং সঠিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি জনগণের কাছে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মাত্র এক মাসের কম সময়ে এই উদ্যোগ কার্যকর হয়েছে, যা স্বল্প সময়ে বড় প্রতিশ্রুতি পূরণের একটি নজির। আপাতত দেশের ৩৭,৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে প্রথম ধাপের ভাতা প্রদান করা হয়েছে এবং কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে ১৪টি জেলায় সম্প্রসারিত হবে। প্রতিমাসে প্রতিটি পরিবার ২,৫০০ টাকা ভাতা পাবেন, যা সরাসরি মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পৌঁছাবে।

চট্টগ্রামে এই কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের এমপি আবু সুফিয়ান এবং জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা। অর্থমন্ত্রী বলেন, “সঠিক নেতৃত্ব ও সদিচ্ছা থাকলে স্বল্প সময়ের মধ্যেও বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব। দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কার্যকর করে আমরা প্রমাণ করেছি, দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণই অর্থনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে।”
অতীতের প্রকল্প বাস্তবায়নের সমস্যার প্রেক্ষাপটে তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে সাধারণত কোনো প্রকল্প বছরের পর বছরেও বাস্তবায়ন করা যায় না। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি তা ভুল প্রমাণ করেছে। এটি হতদরিদ্র পরিবারের জন্য প্রাথমিক অর্থনৈতিক সহায়তা, যা ধাপে ধাপে দরিদ্র, নিম্নআয়ের এবং মধ্যবিত্ত পরিবারকে পৌঁছে দেওয়া হবে।”
ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দেশের নারীরা সরাসরি অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হবেন। সরকারের লক্ষ্য দেশের নারীপ্রধান পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, আত্মমর্যাদা এবং সামাজিক সম্মান বৃদ্ধি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি শুধু আর্থিক সহায়তা নয়; এটি নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের শক্তিশালী হাতিয়ার।
ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন দেখাচ্ছে, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি কেবল ঘোষণা নয়; কার্যকর উদ্যোগ এবং বাস্তবায়নই জনগণের আস্থা অর্জনের প্রধান হাতিয়ার। পাঁচ বছরের মধ্যে চার কোটি পরিবারকে সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্য দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোকে দৃঢ় করবে। এই কর্মসূচি দেশের জন্য একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নারীর ক্ষমতায়ন একসাথে নিশ্চিত করা হয়েছে।
লেখক: কাজী সরোয়ার খান মনজু
গ্রাসরুটস কো-অর্ডিনেটর(জিসি), বিএনপি গ্রাসরুটস নেটওয়ার্ক।

