মেসেজিং সেবা আরও সহজ ও সমন্বিত করতে আলাদা প্ল্যাটফর্ম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেটা। এর অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে মেসেঞ্জারের স্বতন্ত্র ওয়েবসাইট ও ডেস্কটপ অ্যাপ। ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে দেওয়া এক নোটিসে সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা।
মেটা বলেছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে মেসেঞ্জার ডটকম আর আলাদা মেসেজিং সেবা হিসেবে চালু থাকবে না। ফলে ব্রাউজারভিত্তিক মেসেজিং ব্যবহারকারীরা বড় পরিবর্তনের মুখে পড়তে যাচ্ছেন। এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে বন্ধ করে দেওয়া হবে স্বতন্ত্র মেসেঞ্জার ডেস্কটপ অ্যাপ্লিকেশনটিও।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, মেসেঞ্জার ডটকমে আর বার্তা আদান-প্রদান করা যাবে না। একাধিক ডেস্কটপ প্ল্যাটফর্ম আলাদাভাবে চালু না রেখে, ওয়েবভিত্তিক সব কথোপকথন রিডাইরেক্ট করে ফেসবুক ডটকম/মেসেজেসে নেওয়া হবে। অর্থাৎ ব্যবহারকারীরা মূল ফেসবুক ইন্টারফেসের মাধ্যমেই চ্যাট চালিয়ে যেতে পারবেন।
তবে ওয়েবসাইট বন্ধ হলেও মেসেজিং পরিষেবাটি পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। মেসেঞ্জারের মোবাইল অ্যাপটি আগের মতোই সচল থাকবে। মেটা বিশেষভাবে স্পষ্ট করে দিয়েছে, যেসব ব্যবহারকারীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই কিন্তু শুধু মেসেঞ্জার ব্যবহার করেন, তারা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তাদের আলাপচারিতা চালিয়ে যেতে পারবেন। এতে করে যারা শুধু স্বতন্ত্র মেসেজিং ফিচারের ওপর নির্ভরশীল, তারা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের চ্যাটগুলোর অ্যাক্সেস হারাবেন না।
অনেক ব্যবহারকারীর আরেকটি উদ্বেগ হলো পুরোনো চ্যাট হিস্ট্রি বা আলাপচারিতা সংরক্ষণ করা। ঘোষণায় জানানো হয়েছে, পিন ব্যবহার করে যেকোনো প্ল্যাটফর্মে চ্যাট হিস্ট্রি পুনরুদ্ধার বা রিস্টোর করা যাবে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তটি মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের রক্ষণাবেক্ষণ এবং আধুনিকীকরণের একটি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ। গত কয়েক বছরে অধিকাংশ ব্যবহারকারী মোবাইলনির্ভর যোগাযোগে ঝুঁকছেন। সেই অভ্যাসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিষ্ঠানটি তাদের সেবা আরও সমন্বিত ও সরল করতে চাইছে।
দীর্ঘদিন আলাদা ওয়েবসাইট হিসেবে মেসেঞ্জার ব্যবহার করা অনেকের কাছে এটি বড় পরিবর্তন। তবে মেটা মনে করছে, একীভূত প্ল্যাটফর্মে সেবা দিলে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা আরও সহজ হবে।

