সিরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কুনেইত্রা প্রদেশে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কয়েক ডজন সামরিক যান অনুপ্রবেশ করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, প্রায় ৩০টি সামরিক যান পূর্ব তেল আল-আহমার এলাকায় আইন জিওয়ান গ্রামের কাছে প্রবেশ করে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বার্তা সংস্থা সানা জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী বারিকা গ্রামের কাছেও পৌঁছে এক তরুণ সিরীয় নাগরিককে ভেড়া চরানোর সময় আটক করে নিয়ে গেছে। আরেক ঘটনায় তিনটি ইসরায়েলি সামরিক যান অস্থায়ীভাবে আবু মাধারাহ খামার এলাকায় প্রবেশ করেছে।
কুনেইত্রা গোলান মালভূমি অঞ্চলে অবস্থিত। এটি জাতিসংঘের স্বীকৃতি অনুযায়ী সিরিয়ার অংশ। তবে ১৯৬৭ সালের ছয়দিনের যুদ্ধের সময় ইসরায়েল গোলানের পশ্চিমাংশের প্রায় ১ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করে। পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালের ইয়োম কিপুর যুদ্ধে সিরিয়া অঞ্চলটি পুনর্দখলের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়।
১৯৭৪ সালের বিচ্ছিন্নতা চুক্তির মাধ্যমে একটি জাতিসংঘ বাফার জোন গঠন করা হয়। এর মাধ্যমে ইসরায়েল-অধিকৃত এলাকা ও সিরিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন অংশকে আলাদা করে। কুনেইত্রার একটি অংশ ওই বাফার জোনের ভেতরে পড়ে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বছর আইন জিওয়ান ও আল-আজরাফ গ্রামে দুটি সামরিক চেকপয়েন্ট স্থাপন করে ইসরায়েল। এছাড়া ২০২৫ জুড়ে সিরিয়ায় ৬০০-র বেশি বিমান, ড্রোন ও গোলাবর্ষণ হামলা চালানো হয়েছে বলে সশস্ত্র সংঘাত বিষয়ক পর্যবেক্ষক সংস্থা এসিএলইডি জানিয়েছে।
দামেস্ক সরকার বলছে, ১৯৭৪ সালের চুক্তির প্রতি তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও ইসরায়েলের অব্যাহত অনুপ্রবেশ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে। যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও সামরিক উত্তেজনা প্রশমনে একটি যৌথ প্রক্রিয়া গঠনের বিষয়ে জানুয়ারিতে সমঝোতা হয়েছে। তবে সিরিয়া বলছে, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের সুস্পষ্ট সময়সীমা ছাড়া স্থায়ী সমাধান কঠিন।

