শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬

রমজানেই শুরু হবে ফ্যামিলি কার্ড

বিশেষ প্রতিনিধি

নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঈদুল ফিতরের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। দ্রুতই এই প্রক্রিয়া শুরু হবে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি ক্ষমতাসীন দলের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার। সরকার পাইলট ভিত্তিতে বহুল আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি চালু করবে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের প্রতিটিতে ১টি করে উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রবর্তনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ধাপে ধাপে ৫ কোটি পরিবারকে এই কার্ড দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন কয়েকজন মন্ত্রী। এ সংক্রান্ত অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের লক্ষ্যে কমিটি আগামী ২৪শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেবে।

গতকাল ফ্যামিলি কার্ড চালুর কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্তকরণ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রীরা। সচিবালয়ের এক নম্বর ভবনে সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। দ্বিতীয় দিনের মতো বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে সচিবালয়ে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সভা শেষে খাদ্য ও কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ সাংবাদিকদের জানান, প্রথমে হতদরিদ্র নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে; যার মাধ্যমে নগদ দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পাওয়া যেতে পারে। কীসের ভিত্তিতে দেয়া হবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রথমে কিছু অঞ্চলের মানুষের মধ্যে তা বণ্টন করা হবে। এ নিয়ে কিছু এলাকা আগেই নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রথমে কতোজনকে দেয়া হবে সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, ধাপে ধাপে সব প্রতিশ্রুতিই পূরণ করবে সরকার। কৃষিমন্ত্রী জানান, আপাতত অতিদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ক্যাশ টাকা দেয়া হবে। টাকার পরিমাণ কী হবে তা নির্ধারিত হবে দু’-একদিনের মধ্যেই।

বৈঠক শেষে তথ্য ও সমপ্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই সরকার পাইলট ভিত্তিতে বহুল আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হবে। ধাপে ধাপে দেশের সব পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। তথ্যমন্ত্রী জানান, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে পাঁচ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে। বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারের নারী সদস্য পর্যায়ক্রমে এই কার্ড পাবেন।

এ বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারেই ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। এটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। প্রথম ধাপে কতো পরিবার কার্ড পাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কর্মসূচিটি হবে সর্বজনীন, কোনো বিধিনিষেধ থাকবে না। তবে একটি কমিটি গঠন করা হবে এবং তাদের সুপারিশ অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণ শুরু হতে পারে। প্রথমে অতি দরিদ্র, পরে দরিদ্র এবং এরপর মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ ছাড়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড দরিদ্রদের কাছে পৌঁছে দিতে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

কমিটি গঠন: ফ্যামিলি কার্ড প্রদান সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে সরকার। গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কমিটি বিষয়ক অধিশাখা থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ১৫ সদস্যের ওই কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে। এ ছাড়া কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন ১৪ জন। কমিটির সদস্যরা হলেন- মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী; উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী; মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী; উপদেষ্টা মাহ্‌?দী আমিন; উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ; মন্ত্রিপরিষদ সচিব; মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব; নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব; অর্থ বিভাগের সচিব; তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব; স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব; পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

এ ক্ষেত্রে কমিটিতে ‘সচিব’ বলতে সিনিয়র সচিবও অন্তর্ভুক্ত হবেন উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের লক্ষ্যে কমিটি আগামী ২৪শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন দেবে। এ ছাড়াও কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, নবগঠিত এই কমিটি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নের একটি উপযুক্ত ডিজাইন প্রণয়ন এবং সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতি প্রণয়ন; প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের প্রতিটিতে ১টি করে উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রবর্তনের ব্যবস্থা গ্রহণ; নারীদের জন্য বিদ্যমান অন্য কোনো কর্মসূচিকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায় কিনা তা পর্যালোচনা; সুবিধাভোগীদের ডাটাবেজ প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র ও National Household Database আন্তঃসংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে ডিজিটাল গওঝ প্রণয়নের সুপারিশ করবে।

শিগগিরই খাল খনন শুরু: শিগগিরই সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করবে নতুন সরকার। ১৮০ দিনের মধ্যে কর্মসূচির আওতায় বেশির ভাগ খাল খনন করা হবে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া একই সভায় প্রতিবছর পাঁচ কোটি করে বৃক্ষরোপণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠক শেষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী সাংবাদিকদের এসব সিদ্ধান্ত জানান। খাল খনন কর্মসূচির বিষয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, জিয়াউর রহমান এই কর্মসূচিকে একটি বিপ্লবে পরিণত করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে থেকে বারবার উল্লেখ করেছেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে মানুষ যেন সুবিধা পায়। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে স্থানীয় সরকার, পানি, দুর্যোগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় বসে ঠিক করবে কবে নাগাদ এটি শুরু হবে। ১৮০ দিনের মধ্যে এই কাজের বেশির ভাগ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার প্রসঙ্গে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, প্রতিবছর পাঁচ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। মে মাসে শুরু হবে। এ বছর হয়তো পাঁচ কোটি সম্ভব হবে না। তবে আগামী বছর এই ঘাটতি পূরণ করা হবে।

- Advertisement -spot_img
  • সর্বশেষ
  • পঠিত