মঙ্গলবার, এপ্রিল ২১, ২০২৬

নাসেরের প্রশ্নে অস্বস্তিতে আইসিসি!

চেরাগি স্পোর্টস ডেস্ক

উপমহাদেশের ক্রিকেটে রাজনীতি আর খেলার সীমারেখা বহু আগেই মুছে গেছে। মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও এখন বড় হয়ে উঠেছে বোর্ডরুমের সিদ্ধান্ত, রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা আর ক্ষমতার ভারসাম্য। সেই বাস্তবতাকেই এবার সরাসরি সামনে এনে প্রশ্ন তুলেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ও ধারাভাষ্যকার নাসের হুসেইন। তার মতে, আইসিসির আচরণের কারণেই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ক্রিকেট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

উপমহাদেশে ক্রিকেটই এখন সবচেয়ে কার্যকর রাজনৈতিক হাতিয়ার। নাসের হুসেইনের ভাষায়, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান বারবার তারই শিকার হচ্ছে। আইসিসিকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা রয়েছে যে সংস্থাটি কার্যত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রভাবাধীন।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জয় শাহ আইসিসির চেয়ারম্যান হওয়ার পর সেই অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপির প্রভাবশালী নেতা অমিত শাহর ছেলে জয় শাহের নেতৃত্বে আইসিসির সিদ্ধান্তে ভারসাম্য হারাচ্ছে বলেই মনে করছেন নাসের হুসেইন। ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাকিস্তানে খেলতে ভারতের নিরাপত্তাজনিত আপত্তির কারণে ম্যাচগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল দুবাইয়ে। তখন আইসিসি ভারতের দাবির সামনে অনায়াসেই নতি স্বীকার করেছিল।

স্কাই ক্রিকেট পডকাস্টে এই বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন নাসের হুসেইন। সাবেক এই ইংল্যান্ড অধিনায়ক বলেন, ক্ষমতার সঙ্গে দায়িত্বের সম্পর্ক রয়েছে। তার মতে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ক্রিকেট ধারাবাহিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভারত-পাকিস্তান কিংবা ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচগুলোও দিন দিন একতরফা হয়ে পড়ছে।

নাসেরের প্রশ্ন ছিল সরাসরি ও কঠিন। তিনি বলেন, যদি উলটোটা ঘটত তাহলে আইসিসি কী করত। স্কাই ক্রিকেট পডকাস্টে তার ভাষায়, ‘ভারত যদি
কোনো টুর্নামেন্টের এক মাস আগে বলত যে তাদের সরকার চায় না তারা বিশ্বকাপের জন্য এই দেশে খেলুক, তাহলে কি আইসিসি বলতে পারত, তোমরা নিয়ম জানো, তাই দুর্ভাগ্যবশত তোমাদের বাদ দেওয়া হচ্ছে?’

বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে নাসের হুসেইন ছিলেন স্পষ্টভাবে সহানুভূতিশীল। তার মতে, বাংলাদেশ হঠাৎ করে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা বলেনি। পুরো সংকটের শুরু হয়েছিল মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায়। নাসের হুসেইনের মতে, বিসিবি যেভাবে নিজেদের ক্রিকেটারের পাশে দাঁড়িয়েছে, সেটি প্রশংসার যোগ্য। একই সঙ্গে পাকিস্তান যেভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটিও তার চোখে অত্যন্ত সাহসী ও নৈতিক অবস্থান।

নাসের হুসেইনের মতে, পাকিস্তানের সামনে অন্য কোনো পথ খোলা ছিল না। তিনি বলেন, কোনো একটা পর্যায়ে কাউকে তো বলতে হবে, যথেষ্ট রাজনীতি হয়েছে, এবার কি ক্রিকেটে ফেরা যায় না? ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটে রাজনীতির ছায়া অবশ্য নতুন নয়। এশিয়া কাপে ট্রফি গ্রহণে অস্বীকৃতি, মাঠে হাত না মেলানোর মতো ঘটনাগুলো ক্রিকেটের চেতনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এ সব প্রসঙ্গ টেনে নাসের হুসেইন বলেন, আগে রাজনীতি ছিল ব্যতিক্রম, এখন সেটাই যেন নিয়ম হয়ে গেছে। আগে ক্রিকেট দেশ ও জাতিকে এক করত, এখন বিভেদ বাড়াচ্ছে।

নাসের হুসেইনের সতর্কবার্তা স্পষ্ট। যদি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে এভাবে কোণঠাসা করা হয়, তাদের ক্রিকেট দুর্বল হবে। তখন উপমহাদেশের ঐতিহাসিক লড়াইগুলো ভারসাম্য হারাবে। আর সেটার দায় শেষ পর্যন্ত পড়বে আইসিসির ওপরই।

- Advertisement -spot_img
  • সর্বশেষ
  • পঠিত