ইতিহাসে হাতেগোনা যে কয়জন সামরিক অফিসার দেশের জন্য দু-দুটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে লড়াই করার গৌরব অর্জন করেছেন এবং জেনারেল পদে উন্নীত হয়েছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম তাঁদের মধ্যে একজন। তিনি ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধ এবং ১৯৭১ সালে মাতৃভূমি বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মেজর জিয়া বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক। ১৯৭১ সালের মার্চের সেই ঐতিহাসিক দুর্যোগের সময় বেতারে ভেসে আসা যার কণ্ঠস্বর বিদ্যুৎস্পর্শের মতো সাড়া জাতিকে নাড়া দিয়েছিল।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মেজর জিয়া’ই সর্বপ্রথম ২৫ মার্চ ১৯৭১ রাতে বিদ্রোহ করেন। এর মাধ্যমে প্রকৃত পক্ষে চট্টগ্রামে তাঁর অধীনস্থ সৈন্যদের নিয়ে স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু করেন তিনি। স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে যুদ্ধের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তিনি অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালের জুন পর্যন্ত ১ নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক এবং পরে ‘জেড ফোর্স’-এর প্রধান হিসেবে দুঃসাহসী সেনানায়কের একটা আলাদা পরিচয় অর্জন করেন জিয়া এবং ‘বীর উত্তম’ খেতাব লাভ করন। ১৯৬৫ সালের পাক ভারত যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি হিলাল-ই জুরাত খেতাব লাভ করেন।
দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র পাকিস্তান ও ভারতের অভ্যুদয়ের এক দশক আগে ১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান । এর প্রায় তিন দশকের বেশি সময় পরে স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলাদেশ- যে দেশের জন্মের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক অকতোভয় সম্মুখ যোদ্ধা মেজর জিয়াউর রহমানের নাম।
পিতা মনসুর রহমান ও মাতা জাহানারা খাতুনের দ্বিতীয় সন্তান জিয়া। তাঁরা ছিলেন পাঁচ ভাই, কোনো বোন ছিল না তাঁদের। জিয়ার ডাক নাম ছিল কমল। তাঁর পিতামহ মৌলভি কামালাউদ্দীন মন্ডল ছিলেন ধর্মপ্রাণ মানুষ।
তিনি সব সময় শুদ্ধ বাংলায় কথা বলতেন এবং সন্তানদের ডাকনামে নয়, পুরো নামে ডাকতেন। বগুড়ার মহিষাবান গ্রামের বাসিন্দা কামালউদ্দীন মণ্ডল পাশের গ্রাম বাগবাড়িতে বিয়ে করেন। অভিজাত বংশে জন্ম নেওয়া, তুলনামূলকভাবে বিত্তবান কামালউদ্দীন সব সময় সাদা কাপড়ের পোশাক পরতেন। বীজগণিতে তাঁর দখল ছিল অসাধারণ। কমল পিতামহের প্রতি আকর্ষণ বোধ করলেও তাঁরা পরস্পরের ঘনিষ্ঠ ছিলেন না। কামালউদ্দীনের সাত ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে জিয়াউর রহমানের পিতা মনসুর রহমান ছিলেন পঞ্চম।
জিয়ার মাতামহ আবুল কাশেমের জন্ম ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা জলপাইগুড়ির বিখ্যাত ‘টি ফ্যামিলি’তে। তাঁদের পরিবার সেই অঞ্চলে সর্বপ্রথম চা বাগানের গোড়াপত্তন করায় ব্রিটেনের রানী ভিক্টোরিয়া তাঁদের পরিবারকে এই সম্মাননায় ভূষিত করেন। সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও পদচারণা ছিল আবুল কাশেমের পরিবারের। জিয়াউর রহমানের মা জাহানারা খাতুন ওরফে রানী ছিলেন আবুল কাশেমের দ্বিতীয় মেয়ে। তিনি ছিলেন রেডিও পাকিস্তান করাচি কেন্দ্রের তালিকাভুক্ত নজরুলসংগীত শিল্পী। পরিবারের কারো কারো মতে, এ কারণেই সংগীতের প্রতি জিয়ার গভীর ভালোবাসা জন্মায়। জিয়া বলেছিলেন: “আমার নানীও এক সময় গান গাইতেন। ভালোই গাইতেন। আমার বড় খালা, আমার খুকী খালাও বেশ ভালো গান গাইতেন। আমার মায়ের কাছে শুনেছি, খুকী খালা যেদিন প্রথম গান শিখতে শুরু করলেন সেদিন নানী বলেছিলেন খুকী এখন গান গাইছে, পরিবারে গানের চর্চাটা রইলো, আজ থেকে আমার গান গাওয়া শেষ। নানাবাড়িতে গান বাজনার একটি পরিবেশ সব সময়ই ছিলো।”
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন শাস্ত্রে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করে কলকাতায় আলীপুর টেস্টিং ল্যাবরেটরির চাকরিতে যোগ দেন জিয়াউর রহমানের পিতা মনসুর রহমান। থাকতেন সৈয়দ আমীর আলী অ্যাভিনিউর ভাড়া বাসায়। তাঁর পাঁচ ছেলেরই জন্ম কলকাতায়। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান ভাগের পরপরই তিনি চাকরির কারণে পরিবারবর্গ নিয়ে করাচি চলে যান। অল্প বয়সে ১৯৫০ সালে জিয়ার মা মারা যান, আর ৬৮ বছর বয়সে হৃদরোগে বাবা মারা যান ১৯৭০ সালে। উভয়েই পাশাপাশি শেষশয্যা করাচির পিইসিএইচ সোসাইটির কবরস্থানে। পিতার মৃত্যুর সময় জিয়া ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুসংবাদ শোনার পর তিনি একেবারে নির্বাক হয়ে যান, এমনকি কাঁদতেও পারেন নি কিছুদিন।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে তাঁর মাতা-পিতা তখন আদর করে কমল নামে ডাকতেন। তাঁর ছেলেবেলা কেটেছে কলকাতায়। তাঁর বাবা মনসুর রহমান তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপর্যায়ের একজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ছিলেন। কলকাতার হেয়ার স্কুলে শহীদ জিয়া ৭ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের সময় পরিবারের সঙ্গে শিশু জিয়া করাচি চলে যান। সেখানে কেটেছে তাঁর স্কুল ও কলেজ জীবন। করাচির স্কুল-কলেজে অধ্যয়নকালে শহীদ জিয়া একজন ভাল হকি খেলোয়াড় ছিলেন। স্কুলে তিনি ইংরেজিতে ভাল বক্তৃতা দিতে পারতেন। কৈশোরে নির্মেদ দেহের অধিকারী এক আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি।
করাচির ডি জে কলেজে পড়ার সময় ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান সামরিক একাডেমিতে একজন অফিসার ক্যাডেট হিসেবে শহীদ জিয়া যোগদান করেন। ১৯৫৫ সালে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে শহীদ জিয়া কমান্ডো ট্রেনিং লাভ করেন। ১৯৬৭ সালের এপ্রিল মাসে জিয়াউর রহমান ঢাকার অদূরে জয়দেবপুর সাব ক্যান্টনমেন্টে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের দ্বিতীয় ব্যাচে লিয়নে সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে যোগদান করেন। একই বছর উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য তিনি পশ্চিম জার্মানি যান। ১৯৭০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়। তাঁর ঘাঁটি ছিল ষোলশহর বাজারে। এখান থেকেই শহীদ জিয়া দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
১৯৭৫-এর নভেম্বরের উন্মাতাল রাজপথে অভিষেক ঘটে তাঁর রাজনীতির, স্বাধীনতার ঘোষক ও যোদ্ধা; আবার সুশৃঙ্খল আইন অনুগত সৈনিক। সিপাহী-জনতার বিপ্লবের অনুপ্রেরণার কেন্দ্রবিন্দু তিনি। তার আচমকা তার কাধে অর্পিত হয় এক বিশৃঙ্খল দেশের শাসনভার। তখন সামরিক বাহিনীতে শৃঙ্খল ছিল না। উস্কানি ও চক্রান্তে জর্জরিত সশস্ত্র বাহিনীকে তিনি কঠোর পদক্ষেপে সুশৃঙ্খল করলেন। দেশে রাজনীতি ছিল না, জিয়া রাজনৈতিক দলের পুনরুজ্জীবন ঘটালেন। রাজনীতিকদের জারি করা সামরিক শাসন তুলে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করলেন।
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের কালজয়ী দর্শন উদ্ভাবন করে তিনি জাতিকে উপহার দিলেন পরিচয় ও আদর্শের পতাকা। সময়ের দাবি মেটাতে তিনি সৃষ্টি করলেন নতুন রাজনৈতিক দল। ঢাকার রমনা বটমূলের খোলা চত্ত্বরে ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবদী দল (বিএনপি)’ নামে এই নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট জিয়া। বাংলাদেশের রাজনীতিতে চতুর্থ সংশোধনীর মাধমে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে যে শূন্যতার সৃষ্টি করা হয় তা পুরনে ইতিহাসের দাবী, দেশবাসীর আকাংখায় বিএনপির অভ্যুদয় ঘটে। বিএনপির ঘোষণাপত্রে বলা হয় বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে ইস্পাত কঠিন গণঐক্য, ব্যাপক জনভিত্তিক গণতন্ত্র ও রাজনীতি প্রতিষ্ঠা, এক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত জনগণের অক্লান্ত প্রয়াসের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক মুক্তি, আত্মনির্ভরশীলতা ও প্রগতি অর্জন এবং সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ, নয়া উপনিবেশবাদ অধিপত্যবাদের বিভীষিকা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে বিএনপি গঠিত হয়েছে।
১৯৭৮-এর ৩০ নভেম্বর সরকার ১৯৭৯ সালের ২৭ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দেন। তবে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের দাবিতে দু’দফায় পিছিয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে এই প্রথম সকল রাজনৈতিক দল ও জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি ২০৭টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে এবং ৩৯ টি আসন পেয়ে আওয়ামী লীগ (মালেক) প্রধান বিরোধী দল হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট জিয়া বলেন, বিএনপির প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কাজটি হচ্ছে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনা।’ মালয়েশিয়ার ‘বিজনেস টাইমস’ লেখে, ‘অতীতে বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে পরিচিত করেছিল যে মহাপ্লাবনী সমস্যাগুলো প্রেসিডেন্ট জিয়া কার্যত সেগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।’ এসময় নিউইয়র্ক টাইমসের বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং স্বনির্ভরতা অর্জন এবং উৎপাদন দ্বিগুণ করার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট জিয়ার অক্লান্ত প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করা হয়। ‘৮০ সালেই দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় স্থানান্তরিত করা হয় নয়াপল্টনে। ‘১৯৮১-র ২৯ মে প্রেসিডেন্ট জিয়া চট্টগ্রাম সফরে গেলে ৩০ মে ভোরে সার্কিট হাউজে কিছু বিপদগামী সেনাসদস্য তাকে হত্যা করে। তবে নানা পদক্ষেপে ও কর্মকাণ্ডে জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশের ইতিহাস হয়ে উঠেছে অভিন্ন। ব্যক্তিগত সততা, উন্নয়ন, ঐক্য এবং সুসম্পর্কের রাজনৈতিক দর্শণের কারণে রাজনীতির ইতিহাসে তার নাম লেখা থাকবে স্বর্ণাক্ষরে।
২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর-এক মহানায়কের রাজসিক প্রত্যাবর্তনের দিন। এই দিনটি ইতিহাসে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিল। ৬ হাজার ৩শ ১৪ দিনের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার দেশের মাটিতে পা রাখলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পলাতক ফ্যাসিস্ট হাসিনা তারেক রহমান কে রাজনীতি থেকে দুরে রাখতে সব আয়োজন সম্পন্ন করেছিলো। মিথ্যা মামলায় সাজা প্রদান, মিডিয়া দিয়ে নানারকম গুজব, নানারকম মুখরোচক মিথ্যা কল্পকাহিনী বানিয়ে প্রচার করেছিলেন দিনের পর দিন, বছরের পর বছর। মহান স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’র সুযোগ্য সন্তান নিজ মেধা মননে আজ বাংলাদেশের নেতায় পরিণত হয়েছেন।
২৫ ডিসেম্বর ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই দেশের আকাশ যেন অপেক্ষার ভারে নুয়ে পড়েছিল। প্রায় ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৩৬ ঘণ্টা লন্ডনে নির্বাসিত থাকার পর সপরিবারে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বিএনপির শীর্ষ নেতাকর্মীরা।
বেগম খালেদা জিয়া গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে ৪১ বছর পার করেছেন। পলাতক ফ্যাসিস্ট হাসিনার ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়ে মিথ্যা বানোয়াট মামলায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়াকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। শুধুমাত্র আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাই ছিলো বেগম খালেদা জিয়ার অপরাধ। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৩৭ দিন দেশবিদেশের ডাক্তার-নার্সদের নিরলস পরিশ্রম আর দেশবাসী সহ বিশ্বের অগনিত মানুষের দোয়া সব কিছু বিফলে ফেলে ৩০ ডিসেম্বর মহান আল্লাহর ডাকে চলে গেছেন এই দুনিয়ার মায়া চেড়ে । শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের অজস্র সৈনিকের রাজনৈতিক মা, প্রিয় নেত্রী এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব বেগম খালেদা জিয়া। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশ যতোদিন থাকবে ততোদিন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে আমাদের মাঝে বেচে থাকবেন অনন্তকাল। তিনি শুধু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণীই নন, বরং নিজ গুণে ও নেতৃত্বে নিজেকে একজন শক্তিশালী ও শ্রদ্ধেয় জাতীয় নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। গণতন্ত্রের জন্য তাঁর সংগ্রাম, আপসহীন মনোভাব এবং দেশপ্রেম ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর পর সর্ববৃহৎ জানাজা উনার সহধর্মিণী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার। এদেশের জনগণের হ্নদয়ে বেঁচে থাকবেন নিজ কর্মগুনে শহীদ জিয়া ও মরহুমা খালেদা জিয়া।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এদেশের জনগণ গতো তিনটি ইলেকশনে ভোট দিতে পারে নাই। মানুষ উন্মুখ হয়ে বসে আছে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য। বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান এর নেতৃত্বে বিএনপি আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে বিএনপি আজও রাজপথে।
শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান ও একজন বীরউত্তম খেতাব প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম। বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ জিয়া ছিলেন বাংলার আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র। স্বাধীনতা উত্তর দুর্ভিক্ষ পিড়িত জনগণ শেখ মুজিবের মৃত্যুর পর যখন শুধু অনিশ্চয়তা আর হতাশা ছাড়া কিছুই চোখে দেখছিল না, ঠিক তখনই জিয়া জ্বালিয়েছিলেন আশার আলো, বাংলাদেশের জনগণ বুকে বেঁধেছিল অনেক বড় স্বপ্ন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেছেন এবং পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন।
বাংলাদেশকে উন্নতি ও সমৃদ্ধির এক বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে অধিষ্ঠিত করে জিয়া ইতিহাসে নিজের অক্ষয় স্থান নিশ্চিত করেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে বহুদলীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন, সময়োপযোগী গতিশীল পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশের স্বতন্ত্র অবস্থান ও গতিপথ নির্ধারণ এসব বহুমাত্রিক সাফল্যের কথা সুবিদিত এবং বহুল চর্চিত। শহীদ জিয়া ছিলেন মাটি ও মানুষের নেতা। এ দেশের গরিব মেহনতি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ছিল তার অন্যতম জীবন সাধনা।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন ক্ষণজন্মা ব্যক্তি ও মহান রাষ্ট্রনায়ক। জিয়া বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। জাতীয় ইতিহাসের এক ক্রান্তিলগ্নে একজন পরিত্রাণকারী হিসেবে রাজনীতিতে জিয়ার আবির্ভাব। তিনি শতধা বিভক্ত জাতিকে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ করেছেন। জিয়া দেশপ্রেমে উজ্জ্বল এক অনুভূতির নাম। ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ, জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ’- ছিল জিয়ার বিশ্বাস ও ধ্যান। তিনি আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার। একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে শুধু রাজনীতি, প্রশাসন, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতির তার কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেননি, স্বাধীন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতেও তার বলিষ্ঠ ভূমিকা ও অবদান রেখে গেছেন। ইতিহাস থেকে কারো অবদান জোর করে মুছে দেয়া যায় না। সাময়িকভাবে আজ জিয়াকে হেয় করা, তার সোনালি অবদানকে অস্বীকার করার অপতৎপরতা আমরা দেখছি। কিন্তু এ অপপ্রয়াস সফল হই নি। জিয়াকে ভুলিয়ে দেয়া, তার অবদানকে মুছে ফেলার সাধ্য এ দেশে কারো হবে না। জিয়া থাকবেন দেশপ্রেমিক বিবেকবান প্রতিটি মানুষের অন্তরে এক জীবন্ত প্রত্যয় হিসেবে। মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর ৯০ তম জন্মদিনে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।
লেখক: মোঃ জহিরুল ইসলাম (জহির)
সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক,
চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল।
মোবাইল: ০১৮১৯৬১৭৩৮০
E-mail: zahir.affable@gmail.com

