বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৬১তম জন্মদিন আজ। গত বছরের মতো এবারো দলের পক্ষ থেকে দোয়া-মিলাদ ছাড়া আড়ম্বরপূর্ণ কোনো কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে দলটির। তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশনার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তারেক রহমান ১৯৬৫ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে। তার ডাক নাম ‘পিনো’। তারেক রহমান মাত্র ২২ বছর বয়সে ১৯৮৮ সালে বগুড়া জেলার গাবতলী থানা বিএনপি’র সদস্য হন। আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনে যোগ দেয়ার আগেই তিনি রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তারেক রহমান তার মা খালেদা জিয়ার সহচর হিসেবে সারা দেশে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। ২০০১ সালের নির্বাচনেও মায়ের পাশাপাশি তারেক রহমান দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণা চালান। এই নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতির প্রথম সারিতে তার সক্রিয় আগমন ঘটে। ২০০২ সালে বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্মপ্রাপ্ত হন। এরপরই দেশব্যাপী দলের মাঠপর্যায়ের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেন। মূল সংগঠনসহ যুবদল, ছাত্রদল এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে তৃণমূল সভা আয়োজন করেন। মূলত এই জনসংযোগ কার্যক্রমের ফলে দলের নেতাকর্মীদের তরুণ অংশটির মাঝে তারেক রহমান শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধানমন্ত্রীর সন্তানের পরিচিতি থেকে বেরিয়ে এসে দলের একজন দক্ষ সংগঠক ও সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তার এই সফলতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে বিরোধী পক্ষ অপপ্রচার শুরু করে। তবে এর কোনোটারই ভিত্তি ছিলো না।
তবে ওই অপপ্রচারের সুদূরপ্রসারী ফলস্বরূপ ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময়ে তাকে কারাগারে যেতে হয়, নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এক পর্যায়ে চিকিৎসার জন্য তাকে লন্ডনেও যেতে হয়। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে তিনি দল পরিচালনায় সম্পৃক্ত হতে থাকেন। সারা দেশে নেতাকর্মীদের মধ্যে নেটওয়ার্ক তৈরি করেন। তাদের সকল সমস্যায়, মামলায়-হামলা নির্যাতনে পাশে দাঁড়ানোর মূল ভূমিকা পালন করতে থাকেন। এরফলে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝেও আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠেন তারেক রহমান। তবে সেখানেও বাধার সম্মুখীন হতে হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন উচ্চ আদালতের এক আদেশে তার বক্তব্য-বিবৃতি প্রচারের নিষেধাজ্ঞা জারি থাকে ৫ই আগস্ট পট পরিবর্তনের আগে।
২০০৯ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিএনপি’র পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে এবং ২০১৬ সালে ৬ষ্ঠ কাউন্সিলে তিনি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে লন্ডন থেকেই দায়িত্ব পালন করছেন। সেখান থেকে সব সময় ভার্চ্যুয়ালি দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন, নেতাকর্মীদের কাছে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন।
ওদিকে তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে দেশব্যাপী দলের নেতাকর্মীরা জমকালো অনুষ্ঠান উদ্যাপনের পরিকল্পনা করলেও দলীয় সিদ্ধান্ত তাতে বাদ সেধেছে। গত ১৭ই নভেম্বর তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা থেকে শুরু করে কোনো ধরনের অনুষ্ঠান না করার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপি। ওইদিন নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, গত বছরের মতো এবারও তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা থেকে শুরু করে কোনো ধরনের অনুষ্ঠান না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কেউ অনুষ্ঠান আয়োজনের চিন্তা করলে সেই অর্থ দান করে দিতে হবে। দলের এমন সিদ্ধান্তে এরই মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সারা দেশে প্রত্যেক জেলা, মহানগর ও পৌর শাখার অন্তর্গত মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

