ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবিএল) থেকে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ১৫ কোটি টাকা টাইম লোন তুলে তা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নতুন একটি মামলা দায়ের করেছে।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাইনউদ্দিন বাদী হয়ে চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ।
অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ:
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট সিমেন্টের কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন চৌধুরীকে ‘রিলায়েবল ট্রেডিং’ নামে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজিয়ে ইউসিবিএলের চট্টগ্রাম পোর্ট শাখা থেকে ১৫ কোটি টাকার টাইম লোন নেওয়া হয় ‘ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল’ বাবদ।
এই ঋণের অর্থ পরে সরাসরি আরামিট সিমেন্ট লিমিটেড এবং আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়ামের বিভিন্ন দেনা পরিশোধে ব্যবহার করা হয়, যা সুস্পষ্টভাবে অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের শামিল বলে দুদক উল্লেখ করেছে।
আসামির তালিকায় প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যরা
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাইফুজ্জামান চৌধুরীর স্ত্রী ও ইউসিবিএলের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, ভাই ও ব্যাংকের বর্তমান পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী, বড় বোন রোকসানা জামান চৌধুরী, আত্মীয় আফরোজা জামান চৌধুরীসহ পরিবারের একাধিক সদস্য।
এছাড়াও, ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আরামিট গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীরা রয়েছেন এ মামলায় আসামি হিসেবে। এদের মধ্যে রয়েছেন:
আবু হেনা মো. ফখরুল ইসলাম (ব্যাংক কর্মকর্তা)
মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
জিয়াউল করিম খান
মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল
মীর মেসবাহ উদ্দীন হোসাইন
আব্দুল হামিদ চৌধুরী
বজল আহমেদ বাবুল
আখতার মতিন চৌধুরী (সাবেক পরিচালক)
এম এ সবুর
ইউনুছ আহমদ
নুরুল ইসলাম চৌধুরী
বশির আহমেদ
সৈয়দ কামরুজ্জামান
মো. শাহ আলম
জোনাইদ শফিক
কনক কান্তি সেন
অপরূপ চৌধুরী
তৌহিদ সিপার রফিকুজ্জামান
আরিফ কাদরী (সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক)
মোহাম্মদ মিছাবাহুল আলম (আরামিট গ্রুপ কর্মকর্তা)
আব্দুল আজিজ
শাহরিয়ার হোসেন।
মালিকানা গোপন রেখে প্রতারণা:
দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, লোন গ্রহণের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি যে ‘রিলায়েবল ট্রেডিং’ নামক প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিক এবং ঋণগ্রহীতারা আরামিট গ্রুপের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এর মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্যাংক থেকে লোন আদায় করা হয়, যা পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব দায়দেনা মেটাতে ব্যবহৃত হয়।
এর আগেও মামলা:
এটি সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দুর্নীতির মামলা। এর আগে গত ২৪ জুলাই ইউসিবিএল ব্যাংক থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদক তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করেছিল।
দুদক বলছে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারী একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি কীভাবে ব্যাংক ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে নিজেদের করপোরেট স্বার্থে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন, তা তদন্তে উঠে এসেছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

