বৃহস্পতিবার, মে ২১, ২০২৬

চট্টগ্রামে ভূমিসেবা মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

ভূমিসেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে চালু হচ্ছে ‘ল্যান্ড কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস’

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারের ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেছেন, ভূমিসেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে শিগগিরই ‘ল্যান্ড কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস’ চালু করা হবে। নতুন ল্যান্ড কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসের মাধ্যমে ভূমিসেবা নিয়ে যে কোনো অভিযোগ অনলাইনে করা যাবে। অভিযোগ জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবেদনকারী এসএমএসের মাধ্যমে প্রাপ্তিস্বীকার বার্তা পাবেন। পরবর্তীতে তদন্তের অগ্রগতি এবং চূড়ান্ত ফলাফলও তাকে জানিয়ে দেওয়া হবে। এতে ভূমিসেবার মান উন্নয়ন ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।

আজ ২১ মে বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ৩ দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা ২০২৬-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভূমিসেবা মেলার এবারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল-‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’।

মেলায় ১০ জন ভূমিহীনকে কৃষি খাসজমি বন্দোবস্তের কবুলিয়ত ও সেবা প্রত্যাশীদের হাতে খতিয়ান এবং মেলা উপলক্ষে আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ভূমিসেবা সংশ্লিষ্ট আবৃত্তি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী লোক সংগীত ও নাট্যধারা-গম্ভীরা পরিবেশন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন,জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব হলো তাদের সম্মান, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা প্রদান করা। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, জনগণ যেন সরকারি দপ্তরে এসে সেবার মান ও আন্তরিকতা অনুভব করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সবাইকে কাজ করতে হবে।

মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, বর্তমানে দেশের ১৯৩টি ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নামমাত্র ফি দিয়ে অনলাইন ভূমিসেবা গ্রহণ করতে পারছেন। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও ডিজিটাল সেবার আওতায় আসছে।

তিনি আরও বলেন, ভূমি সংক্রান্ত অধিকাংশ লেনদেন ইতোমধ্যে ই-পেমেন্ট ব্যবস্থার আওতায় এসেছে। পাশাপাশি কৃষিজমি ও বনভূমি সংরক্ষণে ডিজিটাল ল্যান্ড জোনিং সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ভূমির শ্রেণি অনুযায়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ভূমি খাতে দুর্নীতি কমানো প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেবা সহজীকরণ এবং দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে । প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে ভূমিসেবাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করা হবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে ও বাকলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিফাত বিনতে আরার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ভূমিসেবা মেলা’র সমাপনী অনুষ্ঠানে মূখ্য আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ মনিরুজ্জামান ও চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক-অর্থ ও প্রশাসন) মোঃ ওয়াহিদুল হক চৌধুরী।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ সাখাওয়াত জামিল সৈকত। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেবাগ্রহীতা, প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সদস্যবৃন্দ, মানবাধিকারকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ সাখাওয়াত জামিল সৈকত জানান, ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এবারের ভূমিসেবা মেলায় জেলার ১৫ উপজেলা ও বিভাগীয়-জেলা পর্যায়ের মেলায় ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অনলাইনে প্রায় ৫৫ লাখ টাকা ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করা হয়েছে, জেলা প্রশাসন এতে সহযোগিতা করেছে। প্রায় ১০ হাজার সেবাপ্রত্যাশী মেলায় এসে সরাসরি সেবা নিয়েছে। মেলায় ১০ জন ভূমিহীনকে কৃষি খাসজমি বন্দোবস্তের কবুলিয়ত ও সেবা প্রত্যাশীদের হাতে খতিয়ান বিতরণ করা হয়েছে।

সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গনে বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন আয়োজিত ৩ দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলায় মোট ১২টি স্টলে ভূমি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সেবা প্রদান করা হয়েছে।

- Advertisement -spot_img
  • সর্বশেষ
  • পঠিত