শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬

হালিশহর ল্যান্ডফিল্ডে গ্যাস কূপের টেস্ট বোরিং উদ্বোধন করলেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন 

বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনে চট্টগ্রামে শুরু নতুন অধ্যায়

চেরাগি নিউজ ডেস্ক

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে নতুন এক মাইলফলক অর্জন করেছে। বুধবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে হালিশহর আনন্দ বাজার ল্যান্ডফিল্ডে “গ্যাস কূপের টেস্ট বোরিং” উদ্বোধন করেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

উদ্বোধন শেষে মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ দূষণ রোধে বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করার কোনো বিকল্প নেই। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা চট্টগ্রামকে একটি ক্লিন, গ্রিন ও হেলদি সিটিতে পরিণত করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, আমি যখন মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন থেকেই আমার চিন্তা ছিল—কিভাবে শহরের ময়লাগুলোকে সম্পদে রূপান্তর করা যায়। হালিশহরের মানুষ বছরের পর বছর দুর্গন্ধ ও দূষণের কষ্ট ভোগ করছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা শুধু পরিবেশ রক্ষা নয়, বরং বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তাও নিশ্চিত করব।”
মেয়র  জানান, সিটি কর্পোরেশনের “অয়েস্ট টু এনার্জি” উদ্যোগের আওতায় চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে বায়োগ্যাস উৎপাদনের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই টেস্ট বোরিং সফল হলে ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যেই পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকল্পটি চালু হবে, এবং জনগণ বিনামূল্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবা পাবে।”
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রতিদিন চট্টগ্রাম শহরে প্রায় ৩ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার মধ্যে সিটি কর্পোরেশন সংগ্রহ করে প্রায় ২২০০ টন। বাকি বর্জ্য নালা ও খালে গিয়ে জলাবদ্ধতা ও দূষণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এজন্য ডোর-টু-ডোর প্রকল্প চালুর মাধ্যমে আমরা শতভাগ বর্জ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করতে চাই।”
মেয়র এসময় জনগণের প্রতি আহ্বান জানান, আপনারা বর্জ্য নালা বা খালে ফেলবেন না। একটু সচেতনতা আমাদের শহরকে করবে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটি হবে বাংলাদেশের প্রথম বায়োগ্যাস প্রজেক্ট, যা চট্টগ্রামকে একটি পরিবেশবান্ধব, আধুনিক ও টেকসই শহরে রূপান্তরে ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চসিক সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, এম এ আজিজ, সমাজসেবক হানিফ সওদাগর, সাবেক কাউন্সিলর হাসান মুরাদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা।

- Advertisement -spot_img
  • সর্বশেষ
  • পঠিত