আগামী পাঁচ বছরে ভারতে ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে গুগল। যার অংশ হিসেবে দেশটিতে একটি বৃহৎ ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
গুগল ক্লাউডের প্রধান নির্বাহী থমাস কুরিয়ান নয়া দিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আমরা যত বড় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্র তৈরি করছি, এটি তার মধ্যে সবচেয়ে বড়।’
ভারতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এআই-ভিত্তিক সেবা ও প্রযুক্তির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
বছরের শেষে দেশটিতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯০০ মিলিয়ন ছাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কুরিয়ান ঘোষণা দেন, ‘আমরা আগামী পাঁচ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলার মূলধনী বিনিয়োগ করব এবং অন্ধ্র প্রদেশের বন্দরনগর বিশাখাপত্তনমে গিগাওয়াট-স্কেলের একটি এআই হাব গড়ে তুলব।’
তিনি আরো জানান, কেন্দ্রটি ধীরে ধীরে একাধিক গিগাওয়াট সক্ষমতায় উন্নীত করা হবে, যা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে এক ধরনের ‘ডিজিটাল মেরুদণ্ড’ হিসেবে কাজ করবে।
বিশ্বব্যাপী ডেটা সেন্টারের চাহিদা এখন বিপুল, কারণ বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণ এবং শক্তিখরচকারী এআই সিস্টেম চালানোর জন্য এসব অবকাঠামো অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঘোষণায় ‘আনন্দিত’ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘এটি আমাদের ডিজিটাল অর্থনীতি শক্তিশালী করবে এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি নেতৃস্থানীয় হিসেবে ভারতের অবস্থানকে আরো সুদৃঢ় করবে।’
গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই এক্সে লেখেন, তিনি মোদির সঙ্গে এই ‘ঐতিহাসিক উদ্যোগ’ নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘এই হাবে থাকবে গিগাওয়াট-স্কেলের কম্পিউটিং সক্ষমতা, নতুন আন্তর্জাতিক সাবসি গেটওয়ে এবং বৃহৎ জ্বালানি অবকাঠামো। এর মাধ্যমে আমরা ভারতের ব্যবসা ও ব্যবহারকারীদের কাছে আমাদের বিশ্বমানের প্রযুক্তি পৌঁছে দেব, এআই উদ্ভাবন ত্বরান্বিত করব এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াব।
’
ভারতের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি বলেন, ‘ভারতের এআই বিপ্লবের শক্তি নির্মাণে গুগলের সঙ্গে অংশীদার হতে পেরে আমরা গর্বিত।’
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব গুগলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এই ডিজিটাল অবকাঠামো আমাদের ‘ইন্ডিয়া এআই ভিশন’ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু একে ‘অত্যন্ত আনন্দের দিন’ বলে অভিহিত করেন। রাজ্যের প্রযুক্তি মন্ত্রী নারা লোকেশ জানান, এই চুক্তি এসেছে ‘এক বছরের ব্যাপক আলোচনা ও নিরলস প্রচেষ্টার পর’।
লোকেশ বলেন ‘ডেটা এখন নতুন তেল, আর ডেটা সেন্টার হলো নতুন রিফাইনারি।

