ঘনবসতিপূর্ণ নগরীতে যানজট নিরসনে আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে মনোরেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এবার দেশে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে মনোরেল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে জার্মান ও মিশরের যৌথ উদ্যোগে গঠিত কোম্পানি ওরাসকম এবং আরব কনস্ট্রাকশন গ্রুপ। অর্থায়ন থেকে শুরু করে নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের পুরো দায়িত্বও তাদেরই থাকবে।
সোমবার সকালে নগরভবনে টাইগার পাস এলাকায় প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ও ফিল্ড ওয়ার্ক নিয়ে বৈঠক হয়। বৈঠকে চট্টগ্রামের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন—”চট্টগ্রাম একটি বাণিজ্যিক নগরী, দেশের কমার্শিয়াল হাব। মনোরেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি আসবে এবং শহরের চেহারাই পাল্টে যাবে।”
পরে প্রতিনিধি দলটি মাঠপর্যায়ে টাইগার পাস এলাকা পরিদর্শন করে। তারা জানান, মেট্রোরেলের তুলনায় মনোরেল নির্মাণে প্রায় ৪০ শতাংশ কম খরচ হবে। পাশাপাশি একচাকার হওয়ায় বেশি জায়গাও লাগবে না।
কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি বিওটি (Build-Own-Operate-Transfer) ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হবে। প্রাথমিকভাবে ২৫ বছর তারা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে। এ সময়ে একটি ডিপো নির্মাণ করা হবে যেখানে ট্রেন রাখা, ধোয়া-মোছা, মেরামত ও অফিস কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
মনোরেলটি তিনটি রুটে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে:
* কালুঘাট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত: ২৬.৫ কিলোমিটার
* সিটি গেট থেকে শহীদ বশিরুজ্জামান চত্বর পর্যন্ত: ১৩.৫ কিলোমিটার
* অক্সিজেন থেকে ফিরিঙ্গি বাজার পর্যন্ত: ১৪.৫ কিলোমিটার
প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। নির্মাণ শেষে কাজ সম্পন্ন হতে সময় লাগবে প্রায় ছয় বছর।
গত জুনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে ওরাসকম ও আরব কনস্ট্রাকশন গ্রুপ সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম নগরীর যানজট অনেকটাই কমবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

