ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির প্রস্তুতি সভা
স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে জাতীয় জীবনের এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ ৭ নভেম্বর। সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল, সেই ইতিহাস ও চেতনাকে ধারণ করে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে পূর্বনির্ধারিত চার দিনব্যাপী কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চট্টগ্রাম মহানগর।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় নগরীর নাসিমন ভবনস্থ চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় গৃহীত কর্মসূচিগুলো সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, সাংগঠনিক সমন্বয় এবং নেতাকর্মীদের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক জনাব এরশাদ উল্লাহ এমপি। সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জনাব নাজিমুর রহমান।
সভাপতির বক্তব্যে এরশাদ উল্লাহ এমপি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। সেদিন সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার মধ্যে এই ঘটনা রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য উপলব্ধি করতে হলে সেই সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং জাতীয় স্বাধীনতা রক্ষার প্রেক্ষাপট অনুধাবন করতে হবে।
তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম ভিত্তি ছিল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান। জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক বহুত্ববাদ এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যম একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করে। স্বাধীনতার এত বছর পরও জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাসের শিক্ষা ধারণ করে যেকোনো আধিপত্যবাদী তৎপরতা, ষড়যন্ত্র এবং গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে সচেতন থাকতে হবে। তিনি ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসের গৃহীত কর্মসূচি সফল করতে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
সভা সঞ্চালনাকালে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, ৭ নভেম্বর আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এমন একটি অধ্যায়, যা জাতীয় ঐক্য, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং রাষ্ট্রের স্বাধীন সত্তা রক্ষার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে। একটি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা কখনোই জনগণের অধিকারকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যেতে পারে না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের ভিত্তি হচ্ছে জনগণের স্বাধীন মতপ্রকাশ, রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা। অতীতের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ৭ নভেম্বরের কর্মসূচি শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। এ লক্ষ্যে মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সমন্বিতভাবে গৃহীত কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির পূর্বনির্ধারিত চার দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আগামী ৫ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) বর্ণাঢ্য র্যালি। র্যালি উপলক্ষে বিকেল ৩টায় জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জাতীয় ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জনাব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
এছাড়া ৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের উদ্যোগে বিশেষ কর্মসূচি পালন করা হবে। ৭ নভেম্বর সকালে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বিপ্লব উদ্যানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। কর্মসূচির শেষ দিনে ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা।
প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, এম এ আজিজ, অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার, এস এম সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দিন, হারুন জামান, শাহ আলম, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, শওকত আজম খাজা, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল ও শিহাব উদ্দিন মুবিন।
এ সময় মহানগর বিএনপির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, আবুল হাসেম, ইসকান্দর মির্জা, জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, মুজিবুল হক, মো. মহসিন, মো. খোরশেদুল আলম, কামরুল ইসলাম, মো. জাফর আহম্মদ, এ কে খান, গাজী আইয়ুব, এম এ সবুর, নুরু উদ্দিন হোসেন নুরু, মো. আবু মুসা, মো. আশ্রাফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ ইউছুপ উপস্থিত ছিলেন।
অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক দল নেতা নুরুন্নাবাহার ও স.ম. জামাল, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি বেলায়েত হোসেন বুলু ও সাধারণ সম্পাদক জমির উদ্দিন নাহিদ, মহানগর তাঁতীদলের সভাপতি সেলিম হাফেজ ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুরাদ, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি ও সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সাইফুল আলম, জাসাসের আহ্বায়ক মুছা বাবলু এবং ওলামা দলের জয়নাল আবেদীনসহ বিএনপি ও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

