শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৬

ঠাকুরগাঁও-১ উপ-নির্বাচন

মির্জা ফয়সল আমীনের ভূমিধস জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষিত ১৮৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৮৩টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে গেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষে শুরু হয় গণনা। এর আগে সকাল ৮টা থেকে আসনটির ১৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৮৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ২ লাখ ২৪ হাজার ১৬৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৫ হাজার ৪৫০ ভোট।

আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৪০ জন। জেলা নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিকেল ৩টা পর্যন্ত আসনটিতে ৫২ শতাংশ ভোট পড়েছে। নির্বাচনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অন্য তিন প্রার্থী হলেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আব্দুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।

সারাদিনে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মির্জা ফয়সল আমীন।

তবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, অনেক কেন্দ্রে কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্রে ছবি ছিল না, যা উদ্বেগজনক। তিনি ১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও তুলেছিলেন।

নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। নিরাপত্তার দায়িত্বে ২১ প্লাটুন বিজিবি, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের ২৫১ সদস্য, ২ হাজার ২৭২ জন পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর ২ হাজার ৪০৫ সদস্য মোতায়েন ছিলেন। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করেন বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। এছাড়া ৪ বিদেশি পর্যবেক্ষকসহ ১৭৭ দেশি-স্থানীয় পর্যবেক্ষক নির্বাচনি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

একটি কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার চেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং প্রতীকসহ ভোটারদের স্লিপ দিয়ে নির্বাচনী নীতিমালা অমান্য করায় এক জামায়াত নেতাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানাও করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সার্বিকভাবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা কমিশনকে উদ্বিগ্ন করেনি।’ পরিচয়পত্রে ছবি না থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভোটারদের পরিচয় ডেটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এজেন্টদের বুঝিয়ে সন্তুষ্ট করা হয়েছে।

 

 

 

- Advertisement -spot_img
  • সর্বশেষ
  • পঠিত