বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি’র সাথে তারেক রহমানের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাপানের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর ঐতিহাসিক সফর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, এই সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে তাঁর জাপান সফর ও দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছিলেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি-এর সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ শীর্ষ বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রতি আমাদের অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি।

আমাদের আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল এই অংশীদারত্বকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য বাস্তব ও দৃশ্যমান সুযোগে রূপান্তর করা।

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে জাপানের পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া উদ্যোগের আওতায় ৫ হাজার কোটি জাপানি ইয়েন (প্রায় ৩২ কোটি মার্কিন ডলার) জরুরি আর্থিক সহায়তার সম্ভাবনা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ কোটি জাপানি ইয়েন (প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার) বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও আমাদের উৎসাহব্যঞ্জক আলোচনা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রায় দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। এসব বিনিয়োগ দেশের শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করবে, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াবে এবং আমাদের তরুণ কর্মশক্তির জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস, ইলেকট্রনিকস উৎপাদন এবং উন্নত প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আমি একটি বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছি।

পাশাপাশি মহাকাশবিজ্ঞান ও স্যাটেলাইট প্রকৌশলে সহযোগিতা এবং দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরের মধ্যে উচ্চগতির রেল যোগাযোগ স্থাপন ও আধুনিক পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

আমাদের শীর্ষ বৈঠকের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হলো বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় (Bay of Bengal Industrial Growth Belt; BIG-B) উদ্যোগকে যৌথ সমৃদ্ধির একটি নতুন কাঠামোয় এগিয়ে নেওয়ার অভিন্ন অঙ্গীকার।

এই নবায়িত সহযোগিতায় জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প অবকাঠামো, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর ফলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগসেতু হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (Economic Partnership Agreement-EPA) দ্রুত বাস্তবায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার এবং আমাদের অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলোকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দিতে মন্ত্রী পর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য জাপানের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রতি আমি বাংলাদেশের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদাপূর্ণভাবে এবং টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানের অব্যাহত ও সক্রিয় সম্পৃক্ততার আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম দিকের দেশগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম। স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের উন্নয়নযাত্রার প্রতিটি পর্যায়ে জাপান একটি বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে থেকেছে। জাপানের বন্ধুত্ব, উদারতা এবং দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য  বাংলাদেশের জনগণের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

- Advertisement -spot_img
  • সর্বশেষ
  • পঠিত