বুধবার, অক্টোবর ৭, ২০২৬

বাংলাদেশে গাড়ি তৈরির কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা টয়োটার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি স্থিতিশীল, প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) টয়োটা তুশো করপোরেশনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।

বৈঠকে বাংলাদেশে টয়োটার গাড়ি উৎপাদন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়নের প্রসার, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে অবদান রাখার আগ্রহের কথাও জানান তারা।

প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে টয়োটার কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ, বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে।

টয়োটার বিনিয়োগ ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি স্থিতিশীল, প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এসব খাতে টয়োটা তুশো করপোরেশন বিনিয়োগে আগ্রহী হলে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সহায়তা প্রদান করবে বলেও তিনি জানান।

বৈঠকে টয়োটা পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশে টয়োটা বাংলাদেশের ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারণ করে দেশের সব বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টয়োটার সেবা ও কার্যক্রম আরও সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া ২০২৭ সালে বাংলাদেশের একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে টয়োটা বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের সঙ্গে, বাংলাদেশের জন্য’ উন্নয়ন দর্শনকে সামনে রেখে হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেইকেল (এইচইভি) উৎপাদন শিল্প গড়ে তোলার কাজ শুরু করা হবে। এটি ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাবে।

টয়োটা বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নেও অবদান রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে তরুণদের জন্য কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ শিল্পের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে টয়োটার সম্ভাব্য উদ্যোগ ও আগ্রহের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে টয়োটা তুশো করপোরেশনের মোবিলিটি ডিভিশনের সিইও শিগেরু হারাদা, টয়োটা বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট প্রেমমিত সিংসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

- Advertisement -spot_img
  • সর্বশেষ
  • পঠিত