শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট কাটাতে ‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’: প্রতিমন্ত্রী অমিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট কাটাতে সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংকট সমাধানে যখন বলেছেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’, তখন তার সঙ্গে গলা মিলিয়ে আমরাও দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই—‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’ (আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে)।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে বেকারত্ব সৃষ্টি এবং দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক বিপর্যয় রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ’ শীর্ষক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বিগত সরকারের ভুল নীতির কারণে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বর্তমান সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ সংকট থেকে উত্তরণে সরকারের সুস্পষ্ট স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, মেয়াদ শেষে অবসরে যাওয়া পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কোনো ধরনের ক্যাপাসিটি চার্জ ছাড়াই ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ঘোষণার প্রারম্ভে “উই রিভোল্ট” বলেছিলেন, তখন তার সঙ্গীরাও বলেছিলেন “উই রিভোল্ট”। ঠিক তেমনিভাবে সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী যখন বলেছেন, “আই হ্যাভ এ প্ল্যান”, তার সঙ্গে গলা মিলিয়ে আমরাও দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই- ‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’ (আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে)।’

বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সরকারের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য ফার্নেস অয়েলভিত্তিক (এইচএফও) বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে সর্বোচ্চ ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সরকার ইতোমধ্যে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এছাড়া রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ থাকা ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট চলতি সপ্তাহেই চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা এত সহজ নয়, কারণ এটি রাষ্ট্রের সঙ্গে হয়। আমরা সেগুলো মূল্যায়ন করছি। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মেয়াদোত্তীর্ণ পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। আশা করছি, এ সপ্তাহ থেকেই কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ ছাড়াই এসব কেন্দ্র থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাব।’

সমুদ্রে গ্যাস উত্তোলনে বিগত সরকার কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পরই গত ২৪ মে অফশোর বিডিং রাউন্ড উন্মুক্ত করেছি, যার মেয়াদ ৩০ নভেম্বর শেষ হবে। এছাড়া দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ১০৬টি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টির কাজ চলমান।’

ভবিষ্যতে গ্যাসের চাহিদা মেটাতে চলতি বছরের মধ্যেই কমপক্ষে দুটি নতুন এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) স্থাপনের চুক্তি করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া মাতারবাড়ীতে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার নিয়োগের প্রক্রিয়া ও জমি অধিগ্রহণ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জ্বালানি তেলের পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের মেয়াদেই ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ শেষ করা হবে। এতে ক্রুড অয়েল পরিশোধনের সক্ষমতা বর্তমানের ১৫ লাখ মেট্রিক টন থেকে তিন গুণ বেড়ে ৪৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। পাশাপাশি অব্যবহৃত পড়ে থাকা ৮ হাজার কোটি টাকার ‘সিংগেল পয়েন্ট মুরিং’ প্রকল্প চালু করতে ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিশেষ সুবিধার কথা জানিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আগামী গ্রীষ্মকে সামনে রেখে রুফটপ সোলার স্থাপনে শিল্পোদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বাণিজ্যিক আমদানিকারকদেরও মাত্র ১ শতাংশ শুল্ক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আগামী ছয় মাস তাদের কোনো অগ্রিম আয়কর বা ভ্যাট দিতে হবে না। এছাড়া নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ আগামী তিন বছর ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারবেন গ্রাহকরা।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে অতিরিক্ত ১৫ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে আগামী বছর যেন আমরা কিছুটা স্বস্তি অনুভব করতে পারি। আর ২০৩০ সাল নাগাদ দেশের জ্বালানি খাতে কোনো সংকট থাকবে না।’

- Advertisement -spot_img
  • সর্বশেষ
  • পঠিত