বিএনপি সরকার কোন বিশেষ গোষ্ঠী বা ধর্মের জন্য নয় সকল বাংলাদেশিদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমপি। শুক্রবার সন্ধ্যায় জেএমসেন হল প্রাঙ্গণে জাতীয় জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে ধর্মমহাসম্মেলন ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গত ছয় মাসে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সামাজিকভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতিতে, আমাদের নিজেদের মধ্যে, রিলেশনশিপের মধ্যে গুণগত পরিবর্তনের সৃষ্টি করেছে। সবকিছু হয়তো পুরোপুরি হয়নি কিন্তু গুনগত পরিবর্তন হয়েছে, যা পরিবর্তনশীল। এই পরিবর্তন কিন্তু চলতে থাকবে। আমি বিশেষ কোন ঘটনা এখানে উল্লেখে করতে চাইনা। আমি শুধু একটা কথা বলবো, এই বর্তমান সরকার কোন বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য ক্ষমতায় আসেনি। বাংলাদেশের সব গোষ্ঠীর ভোটের মাধ্যমে এই সরকার বিপুল জয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। সনাতনী বলেন, মুসলমান বলেন, বৌদ্ধ বলেন, খ্রিস্টান বলেন, নৃত্বাত্তিক গোষ্ঠী বলেন -সবাই লাইন ধরে ভোট দিয়েছে। খোলাখুলিভাবে ভোট দিয়েছে।এ সরকার গণতান্ত্রিক সরকার, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি আবারও বলছি, সমাজে যে অবক্ষয় হয়েছে, বিগত দিনে একটি অরাজনৈতিক সরকার সমাজে যে বিভেদের সৃষ্টি করেছে, আমি বলছি না তা আগামীকাল সকালে সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা যে পথে চলছি পথটা ঠিক আছে কিনা? পথটা যদি ঠিক থাকে আমারা সেই পথে যেতে পারবো। আমরা সব গোষ্ঠীন কথা মাথায় রেখে নীতিমালা প্রণয়ন করছি। মসজিদে যে অনুদান পাবে, মন্দিরেও একই অনুদান পাবে। মসজিদের ইমামকে যা দেওয়া হয়েছে, মন্দিরের পুরোহিতকেও তা দেওয়া হয়েছে। এটা বাংলাদেশে কোন সময় হয়নি।
সনাতনীদের জন্য দরজা সবসময় খোলা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনারা আমাদের কাছে আসবেন। কারো মাধ্যম লাগবে না, সরাসরি আসবেন। সনাতনীদের জন্য আমার দরজা সব সময় খোলা। সনাতনীদের যেসব সমস্যা আছে তা আমরা আইডেন্টিফাই করবো, তাদের সমস্যা সমাধানে কাজ করবো। এখানে আপনারা নিজেদের দুর্বল মনে করবেন না। নিজেদেরকে অন্যদের থেকে পৃথক মনে করবেন না। আমরা এমন দেশ গড়তে চাই সকল মানুষ তাদের নিজ নিজ উৎসব পালন করবে, নিজ নিজ অধিকার ভোগ করবে, সমাধিকার পাবেন। কারও জন্য বিশেষ কিছু আবার কোন গোষ্ঠীকে ছোট করে দেখা হবে না। আসুন সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি। যেখানে কোনো বঞ্চনা থাকবে না। আমি যখন বড় বাজেট প্রণয়ন করেছি। তখন অনেকে বলেছে এত বড় বাজেট কেন? আপনি কি পারবেন পুরো করতে? আমরা বলছি সবাই এর জন্য যে বাজেট তা সম্পূর্ণ করতে আমরা কাজ করে যাবো।
ঐতিহাসিক জেএমসেন হল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত মহা ধর্মসম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার। মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জলন করে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন শ্রীশ্রী কৈবল্যধামের মোহন্ত মহারাজ কালীপদ ভট্টাচার্য্য। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লায়ন আর কে দাশ রুপু। সংগঠনের কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মাহবুবের রহমান শামীম। মহান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার হরিশ কুমার, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। ধর্মীয় বক্তা ছিলেন বিশিষ্ট ধর্মতত্ত্ববিদ অধ্যাপক স্বদেশ চক্রবর্তী, অধ্যাপক রুপন ধর, উত্তম কুমার চক্রবর্তী। সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ইসরাফিল খসরু। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সহ সভাপতি লায়ন তপন কান্তি দাশ, চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি, জন্মাষ্টমী সহ সভাপতি প্রকৌশলী আশুতোষ দাশ,অর্থ সম্পাদক রতন আচার্য্য, চট্টগ্রাম মহানগর জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি লায়ন শংকর সেনগুপ্ত, চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নিখিল কুমার নাথ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জন্মাষ্টমীর সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল বরণ বিশ্বাস, চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. রাজীব বিশ্বাস, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জুয়েল চক্রবর্তী, চট্টগ্রাম জেলা সৎসঙ্গের সাধারণ সম্পাদক সুমন ঘোষ বাদশা, বাবলু কুমার নাথ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। এর আগে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক কানুরাম দে ও উপ সাংস্কৃতিক সম্পাদক মৌসুমী দাশ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে টিভি বেতারের শিল্পীবৃন্দ গান ও নৃত্য পরিবেশনা করেন। আজ (৫ সেপ্টেম্বর) ও আগামীকাল (৬ সেপ্টেম্বর) দুইদিনব্যাপী ষোড়শপ্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হবে। জন্মাষ্টমী মহোৎসব উপলক্ষে জেএমসেন হলের আশেপাশে বিভিন্ন লোকজ সামগ্রীর দোকান পসরা সাজিয়েছে।

