বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৬, ২০২৬

সিভাসু দিবস আগামীকাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামীকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’। এ উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

কর্মসূচির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, কেক-কাটা, বেলুন উড়ানো এবং আলোচনাসভা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন চত্বরে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান।

উল্লেখ্য, দক্ষ ও যুগোপযোগী ভেটেরিনারিয়ান তৈরির লক্ষ্যে ১৯৯৫ সালের ২৮ শে নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রাম সরকারি ভেটেরিনারি কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল হাজবেন্ড্রি-কে একীভূত করে স্বতন্ত্র ও সমন্বিত ‘ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন’ ডিগ্রি প্রদানের লক্ষ্যে ১৯৯৫-১৯৯৬ শিক্ষাবর্ষে মাত্র ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে এই প্রতিষ্ঠান।

ডেইরি ও পোল্ট্রি শিল্পের উন্নয়ন এবং কৃষি শিক্ষার আঞ্চলিক গুরুত্বের কারণে চট্টগ্রামে একটি ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি উঠে। বিশেষ করে তৎকালীন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মরহুম আবদুল্লাহ আল নোমানের বিশেষ আগ্রহে সেটি আন্দোলনে রূপ নেয়। দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকার তৎকালীন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইউসুফ চৌধুরী ও সাহেদুল আলম কাদেরী’র নেতৃত্বে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট ‘চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়’ বাস্তবায়ন কমিটি গঠিত হয়। উক্ত কমিটির নেতৃত্বে সর্বস্তরের মানুষ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি জানান। গণমাধ্যমে ব্যাপক লেখালেখি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৪ সালের ১৯ শে এপ্রিল চট্টগ্রামের আউটার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এক বিশাল সমাবেশে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকারি ভেটেরিনারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার ঘোষণা দেন।

অবশেষে, ২০০৬ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলক উন্মোচন করেন।

দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে একই বছরের ৭ই আগস্ট জাতীয় সংসদে আইন পাশের মাধ্যমে তৎকালীন চট্টগ্রাম সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ-কে রূপান্তরক্রমে ‘চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়’-এ উন্নীত করা হয়।

৭ই আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এক শুভেচ্ছা বার্তায় উপাচার্য বলেছেন, একসময় ছোট পরিসরে শুরু হলেও শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের মাধ্যমে এটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার চেষ্টায় আছে। যাদের আন্দোলন ও সংগ্রামের মাধ্যমে কলেজ এবং কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়েছে, তিনি তাদের সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

- Advertisement -spot_img
  • সর্বশেষ
  • পঠিত