জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের অবদান ও স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে তাদের গুণাবলি কেবল বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যক্তিগত চরিত্রে ধারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। তিনি বলেন, “জুলাই শহীদদের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা যদি তাদের যথাযথ সম্মান দিতে না জানি, তবে আমরা নিজেরাও কোনোদিন মহান হতে পারব না।”
বুধবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই বিপ্লব দিবস’ উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরীর নিউ মার্কেট নতুন রেলওয়ে স্টেশন-সংলগ্ন জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতিস্তম্ভে বৃষ্টি উপেক্ষা করে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সাঈদ আল নোমান জুলাই শহীদদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেভাবে একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত ও ধ্বংসের মুখে থাকা দেশকে টেনে তুলেছিলেন, ঠিক একইভাবে একটি সংকটাপন্ন রাষ্ট্রব্যবস্থা, অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতিকে পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। জুলাইয়ের যোদ্ধারা দেশকে ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্ত করেছেন। তাই প্রতিটি শহীদ ও তাদের পরিবারের অবদানকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিতে হবে।”
শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণকে প্রতীকী উল্লেখ করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোই যথেষ্ট নয়। শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, চিকিৎসা খাতের পুনর্জাগরণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এখন মূল কাজ হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রগুলোতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের কাজ এমন হওয়া উচিত, যাতে শহীদদের মা-বাবা অনুভব করতে পারেন যে তাদের সন্তানদের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি এবং সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের দিকেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও জিয়া পরিবারের ওপর অতীতে নির্যাতন চালানো হলেও তারা সবসময় মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে বৈষম্যহীন সমাজ গঠন ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার যে পথ তৈরি হয়েছে, তা অনুসরণ করেই শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী বেলাল, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এস. কে. খোদা তোতন, তোফাজ্জল হোসেন, আব্দুল আলিম স্বপন, এস. ফরিম, আব্দুল মান্নান, এস. এম. আজাদ, দাদন দড়ি সুরুজসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

