প্রত্যেকটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের ইনহাউস কোচিং করতেই হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বুধবার (২৪ জুন) সকালে রাজধানীর আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে কেন্দ্রসচিব ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের জুনে এসএসসির কোর্স কাভার, তারপর প্রিটেস্ট, টেস্ট এবং ইনহাউস কোচিং প্রত্যেকটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের করতেই হবে। এ ব্যাপারে আমি শিক্ষকদের অনুরোধ করবো আপনারা গভর্নিং বডির সঙ্গে আলাপ করে আপনাদের এটা নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষাজীবনের সময়ক্ষেপণ কমাতে পরীক্ষার সময়সূচিতে পরিবর্তনের কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দুই বছরের কোর্স শেষ হওয়ার পরই যেন পাবলিক পরীক্ষা নেওয়া যায়, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এ কারণে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে। আগামী ২ জুলাই শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা।
তিনি বলেন, বর্তমানে একজন শিক্ষার্থী ছয় বছর বয়সে স্কুলে ভর্তি হয়ে এসএসসি শেষ করতে ১৬ বছর বয়সে পৌঁছায়। এরপর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় শেষ হতে আরও দীর্ঘ সময় লেগে যায়। অতীতে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশে অতিরিক্ত সময় লাগায় একজন শিক্ষার্থীর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় শেষ করতে প্রায় ২০ বছর বয়স হয়ে যেত। এতে শিক্ষার্থীদের উৎপাদনশীল সময় নষ্ট হয় এবং দেশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এহছানুল হক মিলন বলেন, এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের সময়কে সমন্বিত করার চেষ্টা করছে। ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে রমজান ও ঈদকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মতামত নিয়েই পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হচ্ছে। তবে নির্ধারিত কোর্স সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি জানান।
পরীক্ষায় অনিয়ম ও নকলের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, এখন করোনার মতো নকলের ভ্যারিয়েন্টও বদলে গেছে। এ কারণে পাবলিক পরীক্ষা-সংক্রান্ত আইন পরিবর্তন করা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে নকল বা ডিজিটাল জালিয়াতির প্রমাণ মিললে শুধু পরীক্ষার্থী নয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানকেও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধেও সরকার সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত পরীক্ষায় আমি নিজে বিভিন্ন পর্যায়ে তদারকি করেছেন এবং সম্ভাব্য দুর্বল জায়গা শনাক্তের চেষ্টা করেছেন। এবার সারা দেশে একক প্রশ্নপত্র ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোথাও প্রশ্নফাঁস বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের কথা জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেক শিক্ষককে অতিরিক্ত খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হতো, ফলে যথাযথ মূল্যায়ন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকত। এখন পরীক্ষক প্রশিক্ষণ বাড়ানো, পরীক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সীমিত সংখ্যক খাতা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খাতা স্যাম্পলিংয়ের মাধ্যমে মূল্যায়নের মানও পর্যবেক্ষণ করা হবে।
মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান, সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার প্রমুখ।

