চট্টগ্রাম নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করতে সব সেবা সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণে গত বর্ষায় নগরীতে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে এসেছে। সেই সাফল্য ধরে রেখে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
রোববার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে শুধু খাল-নালা পরিষ্কার করাই যথেষ্ট নয়, বরং সেগুলো পরিষ্কার রাখাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, অনেক সময় প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য খাল-নালায় ফেলার কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, “আমরা খাল পরিষ্কার করলাম, পলি অপসারণ করলাম—কিন্তু পরে আবার যদি সেখানে ময়লা বা বর্জ্য পড়ে, তাহলে সেই প্রচেষ্টা বৃথা যাবে। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।”
মেয়র জানান, নগরীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে ইতোমধ্যে বিনামূল্যে ডোর-টু-ডোর ময়লা সংগ্রহ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে, যাতে কেউ যত্রতত্র ময়লা না ফেলে। একই সঙ্গে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের বিভিন্ন উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্যে একাধিক প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। হালিশহর এলাকায় একটি কোরিয়ান কোম্পানি গত ছয় মাস ধরে বায়োগ্যাস উৎপাদন প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। এছাড়া একটি জাপানি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ তিন বছরের সমীক্ষা শেষে বর্জ্য থেকে প্রায় ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। একইভাবে যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠান বর্জ্য থেকে গ্রিন ডিজেল উৎপাদনের বিষয়ে চসিকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে খাল পুনরুদ্ধার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে সিডিএ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে ৩৬টি খালের উন্নয়নকাজ চলছে। এর বাইরে নগরীতে বাকি ২১টি খালের উন্নয়ন পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।
বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্পের পরিচালক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) ফরহাদুল আলম সভায় জানান, প্রকল্পটির প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও এর আগেই অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে।
এ সময় মেয়র প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “১৫ মে’র মধ্যে আমাকে কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি বুঝিয়ে দিতে হবে। কারণ মে মাসের মাঝামাঝি থেকেই বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমি কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না।”
তিনি আরও বলেন, বারইপাড়া খালের কাজ সফলভাবে শেষ করা গেলে বাকি ২১টি খালের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা সমস্যার একটি পূর্ণাঙ্গ সমাধান চট্টগ্রামবাসীকে উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।
সভায় জানানো হয়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন ২১টি রেগুলেটর বা স্লুইস গেটের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৭টির কাজ শেষ হয়েছে এবং বাকি চারটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার কার্যক্রম চলছে। এসব স্লুইস গেট বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রণ এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খালে পলি অপসারণ, খনন এবং রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৯৫.১৩ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৯৫.৩৯ শতাংশ। যেখানে ২০২৩ সালে জলাবদ্ধতা এলাকার সংখ্যা ছিল ১১৩টি, সেখানে ২০২৫ সালে তা কমে ১৭টিতে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে এসব খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ পুনরুদ্ধারের অগ্রগতি সভায় তুলে ধরা হয়।
সভায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম বলেন, খাল খনন প্রকল্প শেষ হলে এর হস্তান্তর এবং পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, যদিও নগর সরকারের পূর্ণ কাঠামো এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তবুও সিডিএ, সেনাবাহিনী, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ওয়াসা, জেলা প্রশাসন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা যদি পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যেতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতামুক্ত নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”
সভায় বক্তব্য রাখেন জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক কর্নেল মো. তারিকুল আলম, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার মো. ওবায়দুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে শাহিদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী বর্ণ হক, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য জামিলুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আহমদ মইনুদ্দিন, মেয়রের উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ।
জলাবদ্ধতা কমাতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: মেয়র ডা. শাহাদাত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৮ মার্চ ২০২৬, ১৮:২২
- ১ সিটি কলেজ ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রশিবিরের সশস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
- ২ সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- ৩ চট্টগ্রাম সিটি কলেজে দফায় দফায় শিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষ: আহত ২০
- ৪ এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকদের পাশে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি
- ৫ চসিকে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী হেলালী
- ৬ পরীক্ষা সুন্দর হয়েছে, নকল-প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেনি: শিক্ষামন্ত্রী
- ৭ বাকলিয়ায় ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ বাস্তবায়ন কার্যক্রম পরিদর্শনে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত
- ৮ ভূমি ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টদের সেবকের ভূমিকা পালন করতে হবে : ভূমি প্রতিমন্ত্রী
- ৯ ফের বদলাচ্ছে পুলিশের পোশাক: রং নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি
- ১০ যারা সংস্কার সংস্কার করে তারা কিন্তু নারীর স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলে না: প্রধানমন্ত্রী
- ১১ কাল শুরু এসএসসি পরীক্ষা: পরীক্ষার্থী ২০ লাখের বেশি
- ১২ সিরিজে সমতায় ফিরল বাংলাদেশ
- ১৩ প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু বগুড়া সিটি করপোরেশনের
- ১৪ এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রতি চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির শুভেচ্ছা ও নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণের আহ্বান
- ১৫ মেধা, নৈতিকতা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান
- ১৬ সংরক্ষিত আসনে বিএনপি জোটের চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন ৩৬ জন
- ১৭ ১৬০ কোটিতে বিক্রি হচ্ছে রজনীকান্তের নতুন সিনেমা!
- ১৮ কবিতার ভূত!
- ১৯ বগুড়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- ২০ ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ
- ১ তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের দুঃসাহস দেখাবেন না
- ২ গুলশানে চাঁদাবাজির মামলায় গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক অপু গ্রেপ্তার
- ৩ যে ৭ কারণে কথা কম বলবেন, বেশি শুনবেন
- ৪ একটি গোষ্ঠী নানা অজুহাতে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল রাখতে চায়- মীর হেলাল
- ৫ ডা. সেখ ফজলে রাব্বি চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ( স্বাস্থ্য )
- ৬ প্রেসক্লাবে ঢুকতে দেওয়া হবে না ফ্যাসিস্টের দোসরদের
- ৭ সীতাকুণ্ড উপজেলা ছাত্রদলের জরুরী সভা অনুষ্ঠিত
- ৮ মুরাদপুর এলাকায় লিফলেট বিতরণকালে সংক্ষিপ্ত সভায় ” তরুণ প্রজন্ম একটি জাতির সবচেয়ে বড় সম্পদ – মুহাম্মদ শাহেদ
- ৯ এক-এগারোর ছক কষছেন ‘ছোট দলের বড় নেতা’: বিচারপতি সালাম
- ১০ প্রতিবাদ করলেই মামলা’—সাতকানিয়ার দাপুটে চাঁদাবাজ হানিফের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ
- ১১ সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে – মুহাম্মদ শাহেদ
- ১২ যুবদলের “ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন ও আমার না বলা কথা’ শীর্ষক অভ্যর্থনা উপ—কমিটি সদস্য হলেন মুহাম্মদ শাহেদ
- ১৩ নির্বাচন বিলম্বিত হলে স্বৈরাচার আবার ফিরে আসার ক্ষেত্র প্রস্তুত হবে: খন্দকার মোশাররফ হোসেন
- ১৪ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের যৌথ সংবাদ সম্মেলন
- ১৫ চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের পরিচিতি ও সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত

