বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে ভয়াবহ নৈতিকতার অভাব এবং বিনা কারণে রাষ্ট্রপ্রধানদের হত্যা ও অন্য দেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, বিনা কারণেই একটি দেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। কোনো কারণ ছাড়াই একটি রাষ্ট্রের প্রধানকে এবং একটি মতবাদের প্রধানকে হত্যা করা হচ্ছে। এটি এক ভয়াবহ বিশ্ব পরিস্থিতি।
সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে ধানমন্ডিতে ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইএসটি) অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রয়াত বিএনপি নেত্রী ড. শাহিদা রফিকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু এবং ইরান-আমেরিকা চলমান উত্তেজনাপূর্ণ বৈশ্বিক পরিস্থিতির পরোক্ষ ইঙ্গিত দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে চলছি। যেখানে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে গিয়ে জেলে পুরে দেওয়া হচ্ছে।
আমরা যারা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি, মানবিক মূল্যবোধ ও স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি, তারা আজকে চতুর্দিককার অবস্থা দেখে অত্যন্ত কষ্টে ও হতাশায় আছি।
দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, গত ১৭-১৮ বছরে ফ্যাসিস্ট শক্তি আমাদের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে শিক্ষা ব্যবস্থাকে। এই ভেঙে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার জনকল্যাণমূলক হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ।
আমরা এমন এক রাষ্ট্রে ফিরতে চাই যেখানে ন্যায়ের শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
ড. শাহিদা রফিকের স্মৃতিচারণ করে মন্ত্রী বলেন, তিনি ছিলেন নির্ভীক, যিনি কালোকে কালো এবং অন্যায়কে অন্যায় বলতেন। রাজপথে আমার সঙ্গে বহু আন্দোলনে তিনি শরিক হয়েছেন। তার মতো দেশপ্রেমিক বিদুষী নারীর আদর্শকে সামনে রেখেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
আইএসটি পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. মো. শাহপুর রফিক মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহসহ শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

