শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৬

চট্টগ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে মেয়র শিক্ষাবৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

৩ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিল ২৬০২ জন শিক্ষার্থী: ১৪ জানুয়ারি ফল প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন কর্তৃক প্রবর্তিত ‘মেয়র শিক্ষাবৃত্তি-২০২৫’ এর পরীক্ষা উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে বৃত্তি পরীক্ষার তিনটি কেন্দ্র। দায়িত্বরত শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলখভাবে শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ করিয়ে নিজ নিজ কক্ষে নিয়ে যান। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষা দিয়ে অভিভাবকদের কাছে ফিরেছে।

মেয়র শিক্ষাবৃত্তি পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক, প্রধান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যক্ষ আবু তালেব বেলাল জানান, চট্টগ্রামের প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত মেয়র শিক্ষাবৃত্তি পরীক্ষায় চসিকের ৪৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নগরীর ১২৪টি বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণীর ৩ হাজার ৫৩৭ পরীক্ষার্থী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছিল, তারা নিজ নিজ কার্যালয় থেকে প্রবেশপত্রও সংগ্রহ করেছে। তবে এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ২হাজার ৬০২ শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বিশেষ প্রয়োজনে শহরের বাইরে থাকায় এবার কেন্দ্র পরিদর্শনে আসতে পারেনি। তবে তিনি শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পরিচালনা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।’
১৫০০ শিক্ষার্থী অংশ নেওয়া অপর্ণাচরণ সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কেন্দ্রে বৃত্তি পরীক্ষা পরিদর্শন করেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা বিনতে আমিন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মওলা মুরাদ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহেদুল কবির চৌধুরী, চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সভাপতি হৃদয় হাসান বাবু।

কেন্দ্র পরিদর্শন করেন শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা বিনতে আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের জন্য সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মাননীয় মেয়র যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষা বিভাগ এই কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। পরীক্ষা কেন্দ্রে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সবকিছু পরিচালিত হচ্ছে দেখে ভালো লাগছে। আগামীতে এই পরীক্ষা আরও বৃহত্তর পরিসরে আয়োজন করা হবে।

নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু হাশেম বক্কর বলেন, এই ধরনের বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন আগামী প্রজন্মের মেধা-মনন যাচাইয়ের জন্য খুবই প্রয়োজন। কারণ, আজকের এই প্রজন্মই আগামীর বাংলাদেশ। আগামীতে যে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি, তার বাস্তবায়নেরও এই ধরনের আয়োজন সহায়ক হবে বলে আমি মনে করি। তাই মেয়র বৃত্তি আয়োজনের জন্য সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, শিক্ষা বিভাগ এবং বৃত্তি পরিচালনা কমিটিকে আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ও তাদের মেধা-মনকে শাণিত করার জন্য চট্টগ্রামের মেয়র এই ধরনের একটি বৃত্তির আয়োজন করেছেন দেখে আমি সত্যিই আনন্দিত। আগামীর বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে মেধাবী প্রজন্ম তৈরি করতে হবে, এই ধরনের বৃত্তি পরীক্ষা সেক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে বলে আমি মনে করি। মেধাবী প্রজন্মের হাতে আগামীর বাংলাদেশ পরিচালিত হোক, আমাদের সকলের ভবিষ্যৎ সুন্দর ও সমৃদ্ধ হোক।’
বৃত্তি পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক আবু মোশাররফ রাসেল জানান, ‘আগামী ১৪ জানুয়ারি, বুধবার মেয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হবে। ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট ১০০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হবে। পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত দুইজনকে দেওয়া হবে ল্যাপটপ, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট। অন্যদের নগদ টাকা, ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও বই দেওয়া হবে। আগামী ১৯ জানুয়ারি নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট (টিআইসি) মিলনায়তনে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ করা হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেবেন সিটি কর্পোরেশন মাননীয় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।’

- Advertisement -spot_img
  • সর্বশেষ
  • পঠিত