২০০৩ সালে ভারতের বিপক্ষে সবশেষ জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। সাফ চ্যাম্পিয়ন শিপের সেমিফাইনালে নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে ড্র থাকার পর মতিউর মুন্নার গোল্ডেন গোলে ভারতকে হারায় বাংলাদেশ। এরপর কেটে গেছে ২৩ বছর। দীর্ঘ এই সময়ে ১০ বার ভারতের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। তবে জয়ের দেখা মেলেনি জামাল-তপুদের। ছয় ড্র’র বিপরীতে হেরেছে চার ম্যাচে। চলতি বছরের মার্চে এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে হামজা চৌধুরীর অভিষেক ম্যাচেও ভারতকে বাগে পেয়েও হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। শিলংয়ের জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে ম্যাচটি ড্র হয়েছিল গোল শূন্যতে। তবে এবার ভারতকে হারিয়ে দীর্ঘদিনের খরা কাটাতে চান জামাল ভূঁইয়া। কোচ হাভিয়ের কাবরেরাও চাইছেন দেশের মাটিতে ভারতকে হারিয়ে অন্তত শেষটা রাঙাতে। ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ রাত ৮টায় শুরু হবে দু’দেশে এই মহারণ। যেখানে মাঠে নামার আগেই চাপ অনুভব করছেন ভারতের কোচ খালিদ জামিল।
আজ রাত ৮টায় ফ্লাডলাইটের আলোয় বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে ভারত। অথচ দলটি রাতের আলোতে অনুশীলন না করে করেছে সকাল ৯টায়। খেলার ৩৬ ঘণ্টা আগে। ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনেও দলটির কোচ খালিদ জামিল হাজির হয়েছিলেন একাদশের বাইরে এক গোলরক্ষককে নিয়ে। তবে সংবাদ সম্মেলনে টু দ্য পয়েন্টে কথা বলেছেন এই ভারতীয় কোচ। তার কথাতেই বোঝা গেছে, তারা পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েই এখানে এসেছেন। রাত বাদ দিয়ে দিনের অনুশীলনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এভাবে ‘খেলার আগের দিন আমরা এভাবেই অনুশীলন করি। এটা সাধারণ নিয়ম আমাদের কাছে।’ বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে সবচেয়ে আলোচিত নাম ছিল সুনীল ছেত্রী। ভারতীয় এই তারকার কারণেই বহু জয় হাতছাড়া হয়েছে বাংলাদেশের। সেই মার্চে অবসর ভেঙে ফিরেছিলেন বাংলাদেশ ম্যাচে। এবার অ্যাওয়ে ম্যাচে তাকে দলে রাখেননি কোচ জামিল। সুনীলকে নিয়ে প্রশ্ন হলে জামিলের সরাসরি উত্তর, ‘সে অবসর নিয়েছে।’ খালিদ জামিল ভারতের সাবেক ফুটবলার। তিনি নিজেও বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ খেলেছেন। বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের স্মৃতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘দুই দলের খেলোয়াড়রা এই ম্যাচ সম্পর্কে জানে। সবাই অনেক সিরিয়াস থাকে।’ এশিয়ান কাপ বাছাই পর্ব থেকে বাংলাদেশ ও ভারত- দুই দলেরই বিদায় আগেই নিশ্চিত হয়েছে। তবু বাংলাদেশের দর্শকদের মধ্যে ভারত ম্যাচ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ। যার বড় প্রমাণ অনলাইনে টিকিট ছাড়ার ৬ মিনিটের মধ্যে সব বিক্রি হয়ে যাওয়া। এর পাশাপাশি প্রতিপক্ষের মাঠে খেলাটা যে সব সময়ই কঠিন, সেই বাস্তবতা জানেন জামিলও। তার দলের ওপর চাপ আছে কি না- প্রশ্নে ভারত কোচ বলেন, ‘হ্যাঁ, চাপ আছে। আমাদের তা মানতে হবে। সবাই জানে এটি একটি চাপের ম্যাচ। তবে সে জন্য আমাদের একটি ইতিবাচক ফলের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।’ গত ২৫শে মার্চ শিলংয়ে দুই দলের প্রথম লেগ গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। সেই ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক হয়েছিল হামজা চৌধুরীর। ইংলিশ ক্লাব লেস্টার সিটিতে খেলা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার বাংলাদেশের হয়ে এখন পর্যন্ত ৬ ম্যাচে করেছেন ৪ গোল, যার মধ্যে দু’টি করেছেন বৃহস্পতিবার নেপালের বিপক্ষে। ভারত কোচ অবশ্য একক কোনো খেলোয়াড়কে নিয়ে ভাবতে নারাজ, ‘আমরা শুধু একজন খেলোয়াড়কে বিবেচনায় নিচ্ছি না। বাংলাদেশ দলে অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে। এটা খুব সিরিয়াস গেম।’ ১৯৭৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৩২ বার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত।
এর মধ্যে ভারত জিতেছে ১৬টিতে, বাংলাদেশ ২টিতে। ড্র বাকি ১৪টি (২০০৩ সাফে বাংলাদেশের গোল্ডেন গোলে জয়ের ম্যাচসহ)। এদিকে, আগামী মার্চ পর্যন্ত হাভিয়ের কাবরোর সঙ্গে চুক্তি আছে বাফুফের। সে হিসেবে ঘরের মাঠে এটিই ডাগআউটে কাবরোর শেষ ম্যাচ। ম্যাচটিকে ডার্বি আখ্যা দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের কোচ হাভিয়ের কাবরেরা বলেন, ‘আমি মনে করি এই ম্যাচে অনেক আবেগ জড়িত, ডার্বির আবহটা সবার জন্যই স্পেশাল। দলের আবেগ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করি, সেটাই আসল। এই ম্যাচের গুরুত্ব আমাদের প্রেরণা দিচ্ছে, এটা ভালো, কিন্তু আমরা দল নিয়ে আলোচনা করেছি যে, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করাটাও জরুরি, যেন জিততে পারি। কারণ আমাদের সামর্থ্য আছে, আমরা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী। তাই ভারতের বিপক্ষে অবশেষে জয়ের সুযোগটা নিতে হবে। এখন এটা আমার ব্যাপার নয়, সত্যি বলতে আমরা খুবই আত্মবিশ্বাসী যে, কাল তিন পয়েন্ট নিতে পারবো। তারপর যা বলার বলবো।’

