লরা উলভার্টকে ফেরাতেই জয়ের সুবাস পেতে শুরু করে ভারত। তিনবারের প্রচেষ্টায় দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়কের ক্যাচটি হাতে জমাতে সক্ষম হন আমানজোত কৌর। শেষ উইকেটে নাদিন ডি ক্লার্কের ক্যাচ ভারত অধিনায়ক হারমনপ্রিত কৌর লুফে নিতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে নাভি মুম্বাইয়ের ড. ডিওয়াই পাটিল স্টেডিয়াম। অনেক অপেক্ষার পর ধরা দিলো সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত, প্রথমবারের মতো নারী বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত।
বৃষ্টির বাগড়ায় ফাইনালের টস হতেই সময় পেছায় প্রায় দেড় ঘন্টার বেশি। টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ উইকেটে ২৯৮ রান তোলে ভারত। রান তাড়ায় ৪৫.৩ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা থামে ২৪৬ রানে। ৫২ রানের জয়ে কানায় কানায় পূর্ণ স্টেডিয়ামে শিরোপা উঁচিয়ে ধরে ভারতীয় মেয়েরা। এক সপ্তাহ আগেও যে ভারত দলের জন্য ঘরে বসে হাততালি দিয়েছেন, সেই শেফালি বর্মা ফাইনাল জয়ের নায়ক। বিশ্বকাপের মূল স্কোয়াড তো নয়ই, রিজার্ভ তালিকাতেও ছিল না শেফালির নাম। প্রতিকা রাওয়াল চোট পেয়ে ছিটকে গেলে সেমিফাইনালের আগে ডাক পান এ ২১ বছর বয়সী ক্রিকেটার।
টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামা ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসটি খেলেন শেফালিই, ৭৮ বলে ৮৭ রান। ছেলে বা মেয়েদের যে কোনো সংস্করণের বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনো ভারতীয় ওপেনারের সর্বোচ্চ ইনিংস এটিই। ৩১ ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংসটি বিশ্বকাপ ফাইনালের জন্যই বোধ হয় তুলে রেখেছিলেন তিনি। এর আগে উদ্বোধনী জুটিতে স্মৃতি মান্ধানার সঙ্গে ১০৪ রানের জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিতটা গড়েন শেফালি। পরে বল হাতেও নিজের সেরা ম্যাচটি খেলেন এ খন্ডকালীন বোলার।
এর আগে ওয়ানডেতে স্রেফ পাঁচবার হাত ঘুরিয়ে ১ উইকেট নিতে পারা শেফালি এদিন ৩৬ রানে নেন ২ উইকেট। ব্যক্তিগত ৪৫ রানে মান্ধানা ফেরার পর দলীয় দেড়শ পার করে আউট হন শেফালি। পাঁচে নামা দীপ্তি শর্মার ব্যাট থেকে আসে ৫৮ রান। শেষদিকে রিচা ঘোষের ২৪ বলে ৩৪ রানের ইনিংসে সংগ্রহ বড় হয় আসরের স্বাগতিকদের। প্রোটিয়া মেয়েদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন আয়াবোঙ্গা খাকা।
রান তাড়ায় আশানুরূপ শুরু করে প্রথমবার ফাইনাল খেলতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকা। কোনো উইকেট না হারিয়ে ৯ ওভারে তুলে ফেলে ৫১ রান। পরের ওভারেই আমানজোত কৌরের থ্রোয়ে রান আউট হন তাজমিন ব্রিটস। দ্রুতই আউট হন আনেকা বশও। তৃতীয় উইকেটে সুনে লুসকে নিয়ে ৫১ রানের জুটি বাঁধেন অধিনায়ক লরা উলভার্ট। ২১তম ওভারে বোলিংয়ে আসেন শেফালি। নিজের প্রথম দুই ওভারেই ২ উইকেট ধরেন তিনি।
পঞ্চম উইকেট হিসেবে সিনালো জ্যাফটা যখন ফিরলেন, তখন দলের খাতায় রান কেবল ১৪৫। একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান উলভার্ট। ষষ্ঠ উইকেটে তার সঙ্গে ৬১ রানের জুটি বাঁধেন অ্যানেরি ডার্কসেন। ৩৫ বলে ডার্কসেনকে ফেরান দীপ্তি। সে ওভারেই ৯৬ বলে সেঞ্চুরি করেন উলভার্ট। ছেলে কিংবা মেয়েদের কোনো বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালে সেঞ্চুরি করা দ্বিতীয় ক্রিকেটার তিনি। তিনিও ধরা দেন দীপ্তির বলেই। একই ওভারে দীপ্তি আরেকটি উইকেট নিলে ম্যাচ তখন কার্যত শেষ হয়ে যায়। ফাইনালে ৫ উইকেটসহ মোট ২২ উইকেট এবং ২১৫ রানে টুর্নামেন্টসেরা দীপ্তি।

